ভোট শেষ হতেই তৃণমূলের ‘গোষ্ঠীকোন্দল’ বাঁকুড়ায়। কোতুলপুরের তৃণমূল প্রার্থীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করলেন মারধরে জখম তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। যা নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, অশান্তির ঘটনাটি ঘটেছে কোতুলপুর বিধানসভার জয়পুর থানা এলাকায়। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে জঙ্গলপথ ধরে জয়পুর যাচ্ছিলেন, সেখানকার পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসি-র সহ-সভাপতি জাকির খান। রাস্তায় তাঁকে বেধড়ক মারধর করে চলে যান কয়েক জন। জখম নেতার অভিযোগ, দলেরই একাংশের জন্য তাঁর উপর হামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিনভর দলের হয়ে ভোটের কাজে ব্যস্ত ছিলেন জাকির। শুক্রবার সকালে তিনি বাইক নিয়ে জয়পুর ব্লকের শালতোড়া এলাকা থেকে জয়পুর যাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, মুরলীগঞ্জ জঙ্গলের ধারে হাটপুকুর ক্যানেল ব্রিজ় এলাকায় পৌঁছোতেই কয়েক জন দুষ্কৃতী বাইক থামিয়ে লাঠিসোঁটা এবং রড দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে স্থানীয় কয়েক জন জঙ্গলে পাতা কুড়োতে গিয়ে জাকিরকে আহত অবস্থায় রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের খবর দেন। তাঁরা তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন:
আঘাত গুরুতর থাকায় পরে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে তাঁকে। আহত জাকির বলেন, ‘‘হামলাকারীরা সকলেই দুষ্কৃতী প্রকৃতির। কিন্তু তৃণমূলের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকে। কোতুলপুরের তৃণমূল প্রার্থী হরকালী প্রতিহারের ভাই মৃত্যুঞ্জয় প্রতিহার নিজে ঘটনাস্থলে না থাকলেও তাঁর নির্দেশেই দুষ্কৃতীরা আমাকে খুন করবে বলে এই হামলা চালিয়েছে।’’ যদিও একে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলতে মানতে নারাজ তিনি।
অন্য দিকে, অভিযোগ উড়িয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিভিন্ন দলীয় কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি চাই, ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করে পুলিশ দোষীদের গ্রেফতার করুক।’’ বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাসের খোঁচা, ‘‘নির্বাচনের জন্য দলীয় বরাদ্দের টাকার ভাগ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রবল আকার নিয়েছে। সেই গন্ডগোলের জেরে তৃণমূলের এক পক্ষ অপর পক্ষের নেতার উপর হামলা চালিয়েছে। ৪ মে যত এগিয়ে আসবে, ততই এই সব আরও বেশি করে ঘটতে থাকবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৬:২৬
৫ মে-র পর সব সিন্ডিকেটবাজ পালাবে, কেউ আর ভাইপো-ট্যাক্স নিতে পারবে না! হুগলির উত্তরপাড়া থেকে শাহ -
১৬:২৬
‘প্রথম দফাতেই সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে তৃণমূল’, দাবি অভিষেকের! শাহকে চ্যালেঞ্জ: ৪ তারিখ পর্যন্ত এখানে থাকুন -
১৪:৩১
নির্বাচনী কাজে বাস অধিগ্রহণে অগ্রিম না মেলায় ক্ষোভ, দ্রুত অর্থ প্রদানের দাবিতে সরব বেসরকারি বাসমালিকেরা -
১০:৩৫
ভোটের মুখে হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি-কে সাসপেন্ডের নির্দেশ কমিশনের, শুক্রবার এখানেই জনসভা রয়েছে শাহের -
০০:৪৪
শিবির ভাঙা থেকে ভয়ে ভোটারের মৃত্যু, বাঁকুড়া জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘সক্রিয়তায়’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল, অভিযোগের পর অভিযোগ