Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোট মিটতেই তৃণমূল বনাম তৃণমূল! বাঁকুড়ায় জখম পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দাবি, খুনের চক্রান্ত করেছিলেন প্রার্থীর ভাই!

শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে জঙ্গলপথ ধরে জয়পুর যাচ্ছিলেন সেখানকার পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসি-র সহ-সভাপতি জাকির খান।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:১৬
TMC Leader Beaten in Bankura

জখম তৃণমূল নেতা হাসপাতালে। —নিজস্ব ছবি।

ভোট শেষ হতেই তৃণমূলের ‘গোষ্ঠীকোন্দল’ বাঁকুড়ায়। কোতুলপুরের তৃণমূল প্রার্থীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করলেন মারধরে জখম তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। যা নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, অশান্তির ঘটনাটি ঘটেছে কোতুলপুর বিধানসভার জয়পুর থানা এলাকায়। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে জঙ্গলপথ ধরে জয়পুর যাচ্ছিলেন, সেখানকার পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসি-র সহ-সভাপতি জাকির খান। রাস্তায় তাঁকে বেধড়ক মারধর করে চলে যান কয়েক জন। জখম নেতার অভিযোগ, দলেরই একাংশের জন্য তাঁর উপর হামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিনভর দলের হয়ে ভোটের কাজে ব্যস্ত ছিলেন জাকির। শুক্রবার সকালে তিনি বাইক নিয়ে জয়পুর ব্লকের শালতোড়া এলাকা থেকে জয়পুর যাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, মুরলীগঞ্জ জঙ্গলের ধারে হাটপুকুর ক্যানেল ব্রিজ় এলাকায় পৌঁছোতেই কয়েক জন দুষ্কৃতী বাইক থামিয়ে লাঠিসোঁটা এবং রড দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে স্থানীয় কয়েক জন জঙ্গলে পাতা কুড়োতে গিয়ে জাকিরকে আহত অবস্থায় রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের খবর দেন। তাঁরা তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

আঘাত গুরুতর থাকায় পরে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে তাঁকে। আহত জাকির বলেন, ‘‘হামলাকারীরা সকলেই দুষ্কৃতী প্রকৃতির। কিন্তু তৃণমূলের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকে। কোতুলপুরের তৃণমূল প্রার্থী হরকালী প্রতিহারের ভাই মৃত্যুঞ্জয় প্রতিহার নিজে ঘটনাস্থলে না থাকলেও তাঁর নির্দেশেই দুষ্কৃতীরা আমাকে খুন করবে বলে এই হামলা চালিয়েছে।’’ যদিও একে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলতে মানতে নারাজ তিনি।

অন্য দিকে, অভিযোগ উড়িয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিভিন্ন দলীয় কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি চাই, ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করে পুলিশ দোষীদের গ্রেফতার করুক।’’ বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাসের খোঁচা, ‘‘নির্বাচনের জন্য দলীয় বরাদ্দের টাকার ভাগ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রবল আকার নিয়েছে। সেই গন্ডগোলের জেরে তৃণমূলের এক পক্ষ অপর পক্ষের নেতার উপর হামলা চালিয়েছে। ৪ মে যত এগিয়ে আসবে, ততই এই সব আরও বেশি করে ঘটতে থাকবে।’’

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Tmc Leader beaten TMC bankura
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy