প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে! হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের সভা থেকে এমনই দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি শিবিরে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করছে।’’
শুক্রবারের প্রচারসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘বাংলায় এসে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে মানুষকে। আমি বলছি, সৎসাহস থাকলে চার তারিখ বাংলায় থাকুন।’’ তার পরেই অভিষেক বলেন, ‘‘আমি জ্যোতিষী নই। তবে আমি যখনই রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছি, তা মেলে। ২০২১ সালে মিলেছে, ২০২৪ সালে মিলেছে, আর এ বারও মিলবে। আমি এখানে বলে দিয়ে যাচ্ছি। তৃণমূল কংগ্রেস কাল (বৃহস্পতিবার) সেঞ্চুরি পার করে দিয়েছে।’’
প্রথম দফার ভোটদানের হার নিয়ে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল এবং বিজেপি, দুই শিবিরই। প্রত্যেকেই নিজের নিজের মতো করে আসন জেতার সংখ্যা জানাচ্ছে। ভোট শেষ হওয়ার আগে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, তাঁর দল প্রথম দফাতেই ১২৫ আসেনর নীচে পাবে না। আর ভোটদানের হার নিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্লেষণ করার পর শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে শাহ দাবি করেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে অন্তত ১১০টি আসনে বিজেপি জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে। আসন বাড়তেও পারে। আবার বৃহস্পতিবার তৃণমূল দাবি করে, খুব কম করে হলেও ১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন জিততে চলেছে তারা। শুক্রবার হাওড়ার সভা থেকে এ বার অভিষেক ‘সেঞ্চুরি’ পার করার কথা বললেন।
অভিষেক বলেন, ‘‘ওরা (বিজেপি) বলেছিল বাংলায় ভোট কেটে ক্ষমতায় আসবে। কাল প্রথম দফার ভোট হয়েছে। দেখেছেন তো বিজেপির মধ্যে কেমন ছটফটানি শুরু হয়ে গিয়েছে।’’ তার পরেই তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ বলেন, ‘‘বাংলায় এসে বলেছিল, ২৩ তারিখ বাঙালিকে ঘরে ঢুকিয়ে দেব। ২৯ তারিখ বাঙালিকে ঘরে ঢুকিয়ে দেব। আমাদের জন্মভূমিতে গুজরাতের গুন্ডারা এসে বলছে উল্টে ঝুলিয়ে দেবে। আমি খালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলাম, গরম পড়েছে, মাথা ঠান্ডা রাখুন, জল বেশি করে খান। উনি বলছেন আমি নাকি গালাগালি করেছি। আমি কোনও খারাপ কথা বলিনি, শুধু তাঁকে শান্ত থাকতে বলেছিলাম। এটা ১০ দিনের ব্যাপার। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, চার তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে থাকুন।’’
আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটদানের হার ৯২.৮৮ শতাংশ। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই হিসাবই প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এ রাজ্যে তো বটেই, বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সারা দেশে এই পরিসংখ্যান বিরল। প্রচলিত ধারণা বলে, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত প্রতিষ্ঠান বা স্থিতাবস্থাবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে তৃণমূল এই তত্ত্বে মান্যতা দিতে নারাজ। তৃণমূলের অনেকে এই প্রসঙ্গে গত লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের দৃষ্টান্ত টানছেন। পশ্চিমবঙ্গে সে বারও অনেক ভোট পড়েছিল এবং ভোটের ফল রাজ্যে শাসকের পক্ষে গিয়েছিল। অভিষেকও তাঁর বক্তৃতায় ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টানলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত