ভবানীপুরে দলের প্রচারে তিনি ‘ঘরের মেয়ে’। সেই ভাবনা থেকেই ভবানীপুরের প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন-পর্ব সাজাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, আজ, বুধবার দুপুরে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন মমতা। এরই মধ্যে কলকাতা ও শহরতলিতে চার প্রধান দল তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা ঘিরে মঙ্গলবার মিছিল, শোভাযাত্রা করে কার্যত ‘শক্তি প্রদর্শনে’র বার্তা দিয়েছে। বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়নে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ-সহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই। কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তিও হয়েছে।
ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন ঘিরে শোভাযাত্রা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি রাজনীতিতে বাড়তি নজর কেড়েছিল। এই আবহে মমতার মনোনয়ন উপলক্ষে দলের ‘শক্ত ঘাঁটি’ ভবানীপুরে জমায়েতের সঙ্গেই ‘ঘরের মেয়ে’ প্রচারে শাণ দিচ্ছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে খবর, কালীঘাটের বাড়ি থেকে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত পথে লাল পাড় সাদা শাড়িতে মমতার সঙ্গী হবেন তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকেরা। ওই কেন্দ্রের বাসিন্দা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর পাশাপাশি থাকবেন তৃণমূলের একাধিক বিদায়ী বিধায়ক, বর্তমান সাংসদ, পুর-প্রতিনিধিরা। সকাল ১০টায় কালীঘাট ও হাজরা মোড়ের জমায়েত থেকে তাঁরা মিছিল করে মমতার সঙ্গে যাবেন। পাশাপাশি, রাজ্য জুড়ে এ দিন ২৭ জন-সহ এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের ২৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
মনোনয়ন জমা দিলেন দমদম উত্তর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর।
দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন উপলক্ষে ব্যারাকপুরে এসে মমতাকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চাই’। কিন্তু সেই মেয়ে বাংলার মেয়ে, ভাইদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এখানে খুন, লুট, অপহরণের মতো ঘটনা ঘটছে।” এর সঙ্গেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম্’ কী ভাবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছিল, সে কথাও তুলে ধরেছেন। কলকাতার জেসপ বিল্ডিং, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, বিধাননগর, ব্যারাকপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার আলিপুর ট্রেজারি বিল্ডিং, সার্ভে বিল্ডিং, বারুইপুর, ডায়মন্ড হারবার, হুগলির শ্রীরামপুর, হাওড়ায় বিজেপির মোট ৪১ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আরও নানা জেলায় চলেছে মনোনয়ন-পর্ব। সর্বত্র হয়েছে শোভাযাত্রা, মোটরবাইক মিছিল। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের দুই উপমুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে কেশবপ্রসাদ মৌর্য, সম্রাট চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল, সাংসদ বাঁশুরী স্বরাজ-সহ অন্যেরা নানা জায়গায় ছিলেন।
এরই মধ্যে বিধাননগরে রাজারহাট-নিউ টাউনের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায় ও বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়ার এবং বারুইপুরে কুলতলির তৃণমূল প্রার্থী গণেশ মণ্ডল ও সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে অশান্তি বেধেছে।
উত্তর কলকাতায় মহম্মদ আলি পার্ক থেকে কলকাতার এবং ব্যারাকপুর স্টেশন থেকে উত্তর ২৪ পরগনার বামফ্রন্টের প্রার্থীদের অধিকাংশই বড় মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ছিলেন দলের নেতা পলাশ দাশ, তড়িৎ তোপদার-সহ অন্যেরা। বর্ণাঢ্য মিছিল থেকে বিশেষ ভাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের ‘হয়রানি’র কথা তুলে ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে কামারহাটির সিপিএম প্রার্থী মানস মুখোপাধ্যায় কর্মী, সমর্থকদের নিয়ে বেলঘরিয়া থেকে ট্রেনে চেপে ব্যারাকপুরে পৌঁছোন। তার পরে দলের শোভাযাত্রায় যোগ দিয়েছেন।
পাশাপাশি, দক্ষিণ কলকাতায় হাজরা থেকে এবং উত্তর কলকাতায় মিছিল করে দলের প্রার্থীদের একাংশ মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। দক্ষিণ কলকাতায় ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, দলের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর-সহ অন্যেরা। এরই মধ্যে শুভঙ্কর অভিযোগ করেছেন, “নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। বহু জায়গায় প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিলেও ‘স্ক্রুটিনি’র নামে হয়রান করা হচ্ছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)