রবিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রাজ্যে বেশ কিছু প্রশাসনিক আধিকারিকেের বদলির নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসে। তার ঠিক পরেই সোমবার সকালে নবান্নের তরফে আরও ৩০ জন ডব্লিউবিসিএস (এগ্জ়িকিউটিভ) আধিকারিকের বদলির বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জানা যায়। যদিও সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশিকা আসলে ১৩ মার্চ, শুক্রবার জারি করা হয়েছিল। প্রকাশ্যে এল ১৬ মার্চ, সোমবার।
নবান্নের প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের ডব্লিউবিসিএস সেল থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জনস্বার্থে প্রশাসনিক কাজে গতি আনতেই এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক জেলায় অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) পদে নতুন নিয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বদলির তালিকায় থাকা আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন অনন্তচন্দ্র সরকার। তিনি এত দিন পর্যটন দফতরে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে উত্তর দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। একই ভাবে মালদহ ডিভিশনের সহকারী কমিশনার পুষ্পক রায়কে ওই জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক পদে পাঠানো হয়েছে।
আইটি ও ইলেকট্রনিক্স দফতরে কর্মরত বিষ্ণুব্রত ভট্টাচার্যকে মুর্শিদাবাদের এডিএম করা হয়েছে। আবার পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের যুগ্ম সচিব সুদীপ্ত দাসকে নদিয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় আরও দেখা যাচ্ছে, আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের যুগ্ম সচিব শুভলক্ষ্মী বসুকে উত্তর ২৪ পরগনার এডিএম করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের যুগ্ম সচিব ব্রিজিত সুচিতা কুজুরকেও উত্তর ২৪ পরগনায় অতিরিক্ত জেলাশাসক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও একাধিক আধিকারিককে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি বা যুগ্ম সচিব পদে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দীপাঞ্জন দে, কোয়েলি দাস, পুষ্পেন চট্টোপাধ্যায় এবং শৈবাল নন্দীর মতো আধিকারিক। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই তাঁদের নবান্নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের সূত্রে খবর, নির্বাচন ঘোষণার আগে থেকেই বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া চলছিল। এই বিজ্ঞপ্তি সেই প্রক্রিয়রই অন্তর্গত। নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক কাজ যাতে আরও দ্রুত ও কার্যকর ভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার জন্যই একাধিক জেলায় অতিরিক্ত জেলাশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার পরই রাজ্য প্রশাসনে একাধিক বদলির নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসে। তার পরের দিনই আরও ৩০ জন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকের রদবদলের খবর সামনে আসায় প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এই ধরনের রদবদলকে অনেকেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলেই মনে করছেন। তবে ভোটের মুখে একাধিক জেলায় নতুন আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করার ইঙ্গিত মিলছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।