ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ। তবে গণনা বাকি। আগামী ৪ মে, সোমবার গণনা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে গণনাকেন্দ্র। সেই কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। শুধু তা-ই নয়, গণনাকেন্দ্রে বেআইনি বা অবৈধ প্রবেশ রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হল। গণনাকেন্দ্রে যাঁদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে, তাঁদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) থাকে। এ বার সেই পরিচয়পত্রের সঙ্গে থাকবে কিউআর কোড। ওই কোড স্ক্যান করেই যাচাই করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া অনুমতিপত্র।
কমিশন জানিয়েছে, গনণাকেন্দ্রে ঢোকার আগে ত্রিস্তরীয় যাচাইকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে ভোটকর্মীদের। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে গণনাকেন্দ্রে ঢোকার মুখে এক বার সংশ্লিষ্ট ভোটকর্মীর আইডি কার্ড পরীক্ষা করা হবে। গণনাকক্ষে যাওয়ার পথে আবার এক বার ওই ভোটকর্মীর আইডি কার্ড যাচাই করবেন নিরাপত্তাকর্মীরা। শেষ বার গণনাকক্ষে ঢোকার মুখে পরীক্ষা হবে। সেখানেই আইডি কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করাতে হবে ভোটকর্মীদের।
কারা কিউআর কোড-যুক্ত আইডি কার্ড পাবেন? কমিশন জানিয়েছে, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং স্টাফ, টেকনিক্যাল স্টাফ, প্রার্থী, নির্বাচন এজেন্ট এবং কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য এ ধরনের আইডি কার্ডের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তা ছাড়া আর কেউ গণনাকক্ষে ঢুকতে পারবেন না।
ভোট গণনা আরও নিরাপদ এবং স্বচ্ছ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, অবৈধ বা অনুমতি ছাড়া কেউ যাতে গণনাকক্ষে ঢুকতে না-পারেন, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। ভবিষ্যতেও ভোট গণনায় এমন পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। গণনাকেন্দ্রের কাছে থাকবে মিডিয়া সেন্টার। সেই জায়গাতেই থাকতে পারবেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। তবে সংবাদমাধ্যমের সকল কর্মী ওই সেন্টারে থাকতে পারবেন না। কমিশনের অনুমোদিত চিঠি থাকলেই সেখানে থাকতে পারবেন সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কর্মী।
আরও পড়ুন:
ইভিএম, স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে নিরাপত্তায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সংখ্যা আর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বার রাজ্যে ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যা আগের চেয়ে কমিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বার ২৯৪টি আসনের ভোট গোনা হবে মোট ৭৭টি কেন্দ্রে। কোন জেলায় কোথায় কোথায় গণনা চলবে, তার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভোটগণনা হয়েছিল ৯০টি কেন্দ্রে। ২০২১ সালের নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ১০৮টি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৫:৫৯
কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন? বিশেষ পর্যবেক্ষককে স্ক্রুটিনি করতে নির্দেশ জ্ঞানেশের! তার পরেই ডায়মন্ড হারবারে সুব্রত -
১১:৪৯
ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে জোড়া মামলা! হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ কল্যাণ-সহ দুই আইনজীবীর, শুনানি শেষ -
২৩:৫০
দু’দফা মিলিয়ে ৫১ লক্ষ ভোটার কমেছিল, ভোটদান বৃদ্ধি ৩০ লক্ষ! ‘চমকপ্রদ’ কাণ্ডে রেকর্ড রাজ্যে, নিশ্চিত প্রভাব পড়বে ফলাফলে -
২২:৩৫
পাঁচ দশকে তৃতীয় বার যথার্থ অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখল পশ্চিমবঙ্গ! আর কবে এই রকম ভোট হয়েছিল এই রাজ্যে -
২২:০৪
২৩০ পার করবেই, দু’দফা ভোট শেষে অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দাবি তৃণমূলের! ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম কেন্দ্র নিয়ে কী ভাবছে শাসকদল?