Advertisement

নবান্ন অভিযান

কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন? বিশেষ পর্যবেক্ষককে স্ক্রুটিনি করতে নির্দেশ জ্ঞানেশের! তার পরেই ডায়মন্ড হারবারে সুব্রত

যে চার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে, তার সব ক’টাই দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে পুনর্নির্বাচন করা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া শুরু করল নির্বাচন কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫৯
Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar called up Special Observer Subrata Gupta and instructed him to conduct scrutiny for the re-election

(বাঁ দিকে) সুব্রত গুপ্ত এবং জ্ঞানেশ কুমার (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই বিভিন্ন বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটের পরে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে। তবে কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন হবে, তা স্ক্রুটিনি করে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এ বার সেই স্ক্রুটিনি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ফোন করে এই নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, যে চার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে, তার সব ক’টাই দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এর মধ্যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত তিনটি। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে পুনর্নির্বাচন করা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া শুরু করল কমিশন। ফলতা, মগরাহাট এবং সোনারপুর এলাকায় পুনর্নির্বাচন নিয়ে স্ক্রুটিনিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে সুব্রতকে। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরেই ডায়মন্ড হারবারে গেলেন তিনি।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, যে ৭৭টি বুথে পুননির্বাচনের আবেদন জানানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, ফলতা বিধানসভার ৩২টি, ডায়মন্ড হারবারের ২৯টি, বজবজের ৩টি এবং মগরাহাট পূর্ব বিধানসভার ১৩টি। এর মধ্যে ফলতা, ডায়মন্ড হারবার এবং বজবজ বিধানসভা অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত। দক্ষিণ ২৪ পরগনারই জয়নগর লোকসভা অন্তর্গত মগরাহাট পূর্ব।

প্রসঙ্গত, সোমবার থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ফলতা। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের তরফে অজয়ের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ফলতাতেই বুধবার ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Gyanesh Kumar Scrutiny
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy