Advertisement
E-Paper

প্রথমার্ধে ঘুমপাড়ানি ফুটবল, দ্বিতীয়ার্ধে চার গোল, পিছিয়ে পড়েও নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিল জাপান

প্রথমার্ধে নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচে দেখা গেল ঘুমপাড়ানি ফুটবল। দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় গতি এল, প্রাণ ফিরে পেল ম্যাচ। দেখা গেল লড়াকু, আগ্রাসী জাপানকে। এশিয়ার দল রুখে দিল নেদারল্যান্ডসকে। শেষ মুহূ্র্তের করা গোলে ২-২ ড্র হল ম্যাচ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০৩:২৯
football

গোলের পর কুবোর সঙ্গে উচ্ছ্বাস নাকামুরার (বাঁ দিকে)। ছবি: রয়টার্স।

নেদারল্যান্ডস ২ (ভ্যান ডাইক, সামারভিল)
জাপান ২ (নাকামুরা, কামাদা)

বিশ্বকাপের ম্যাচ নাকি প্রস্তুতি ম্যাচ?

রবিবার নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচের প্রথমার্ধ দেখার পর এমনটাই মনে হচ্ছিল সমর্থকদের। দুই দলের খেলায় না ছিল তাগিদ, না ছিল আগ্রাসন। দ্বিতীয়ার্ধে সেই দুই দলের খেলাই আমূল বদলে গেল। খেলায় গতি এল, প্রাণ ফিরে পেল ম্যাচ। দেখা গেল লড়াকু, আগ্রাসী জাপানকে। এশিয়ার দল রুখে দিল নেদারল্যান্ডসকে। শেষ মুহূ্র্তের করা গোলে ২-২ ড্র হল ম্যাচ।

তিন মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কিন্তু ডনিয়েল মালেনের শট বারের উপর দিয়ে উড়ে যায়। এর পর থেকে দু’দলের খেলায় শুধু ঘুমপাড়ানি ফুটবল। নেদারল্যান্ডস যতটা পারছিল নিজেদের মধ্যে পাস খেলছিল। চেষ্টা করছিল বলের দখল রাখার। কিন্তু গোলের সুযোগ সে ভাবে তৈরিই হচ্ছিল না। বরং তারা মাঝে মাঝে শারীরিক ফুটবলে জাপানকে বেগ দেওয়ার চেষ্টা করছিল, যার কোনও দরকারই ছিল না। যে কয়েকটি সুযোগ তারা তৈরি করেছিল তা রুখে দেন জাপানের গোলকিপার জ়িয়ন সুজ়ুকি।

সাম্প্রতিক অতীতে ইংল্যান্ড, ব্রাজ়িলের মতো দেশকে হারিয়েছে জাপান। গত বারের বিশ্বকাপে হারিয়েছে জার্মানির মতো দলকে। সেই দলের এমন নিষ্প্রভ ফুটবল দেখে অবাক হয়েছিলেন সমর্থকেরা। জাপান মানেই আগ্রাসী ফুটবল, প্রতি আক্রমণে ঝড় তুলে দেওয়া খেলা। কিন্তু এ দিন প্রথমার্ধে জাপানকে দেখে মনে হচ্ছিল খেলার ইচ্ছেই নেই তাদের। কোনও মতে জোর করে মাঠে নামানো হয়েছে। চোটের কারণে তাকুমি মিনামিনো, কাওরু মিতোমারা না থাকায় এমনিতেই তারা একটু দুর্বল। তা বলে লড়াইটুকু দেখা যাবে না, এটা অনেকেই প্রত্যাশা করেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের খেলাই বদলে গেল। শুরুটা হয় নেদারল্যান্ডসকে দিয়ে। সেটাও জাপানের রক্ষণের ভুলে। ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস যখন ভার্জিল ভ্যান ডাইক হেড করছেন, তখন জাপানের কোনও খেলোয়াড় তাঁকে মার্ক করেননি। কার্যত ফাঁকায় গোল করে যান নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক। তখনও জাপান স্বমূর্তি ধারণ করেনি।

তা হল সাত মিনিট পর। তাকেফুসা কুবো নেদারল্যান্ডসের বক্সে ঢুকে পাস দিয়েছিলেন কিতো নাকামুরাকে। তিনি বল ধরে সামান্য এগিয়ে নিচু শটে পরাস্ত করেন বার্ট ভারব্রুগেনকে। নাকামুরার এক সতীর্থ অফসাইডে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর পায়ে হালকা স্পর্শ লেগে বল গোলে ঢোকে। যদি রেফারি অফসাইড দেননি।

কয়েক মিনিট পরে আবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এ বার গোল করেন ক্রিসেন্সিয়ো সামারভিল। তাঁর গোল আসে অনেকটা আর্জেন রবেনের কায়দায়। জাপানের বক্সে ঢুকে বাঁ দিকে কাট করে বিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে গোল করেন তিনি। জাপানের গোলকিপারের কিছু করারই ছিল না।

খেলা শেষ হতে তখন দু’মিনিট বাকি। মনে হচ্ছিল তিন পয়েন্ট নিয়েই ফিরবে নেদারল্যান্ডস। তা হতে দিলেন না কোকি ওগাওয়া। তাঁর শট দাইচি কামাদার গায়ে লেগে গোলে ঢুকে যায়। পিছিয়েও পড়েও ডালাসে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় জাপান।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
Japan Netherlands
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy