Advertisement
E-Paper

কুরাসাওকে ৭ গোল দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু জার্মানির, লড়াকু ফুটবল খেলে মন জিতে নিল দেড় লক্ষের দেশ, ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজ়িল

শেষ বার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজ়িলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। রবিবার হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। ১২ বছর পর ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজ়িল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০০:৩০
football

গোলের পর কিমিখের সঙ্গে উন্দাভের উল্লাস। ছবি: রয়টার্স।

জার্মানি ৭ (হাভার্ৎজ় পেনাল্টি-সহ ২, মেচা, শ্লটারবেক, মুসিয়ালা, ব্রাউন, উন্ডাভ)
কুরাসাও ১ (কমেনেন্সিয়া)

শেষ বার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজ়িলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। একই ফলাফল ফিরল এ বারের বিশ্বকাপে। হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। ১২ বছর পর ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজ়িল।

এক লক্ষ ৫৬ হাজার। পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে এর চেয়ে ঢের বেশি ভোটার মিলবে। ঠিক এটাই জনসংখ্যা কুরাসাওয়ের। স্বপ্নের যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিল তারা। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি হতে হল। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চার বারের বিশ্বজয়ী জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা অতি বড় কুরাসাও সমর্থকও বুঝতে পেরেছিলেন। তবে সাত গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। এত গোল হজম করার পরেও কুরাসাওকে একটি মুহূর্তের জন্যও নেতিবাচক ফুটবল খেলতে দেখা যায়নি। বল পেলেই তারা প্রতি আক্রমণে উঠে গোল করার চেষ্টা করেছে।

ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় জার্মানি। ৬ মিনিটে গোল করেন ফেলিক্স মেচা। ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজ়ের থেকে পাস পেয়ে মেচা নিখুঁত শটে গোল করেন। তখন মনে করা হয়েছিল, জার্মানি সহজেই ম্যাচ পকেটে পুরে নেবে। কিন্তু নাটক তখনও শুরু হয়নি। ২১ মিনিটে গোল শোধ করে দেন লিভানো কমেনেন্সিয়া। কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা প্রথম গোল। প্রতি আক্রমণ থেকে যে ভাবে গোল করেন কমেনেন্সিয়া, তা প্রশংসা করার মতোই।

ওটাই ছিল জার্মানদের স্বভিমানে আঘাত দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ওই একটা গোল হজম জার্মানির খেলার মেজাজটাই বদলে দিল। বাকি যে সময়টা খেলা হল, তাতে দাপট শুধু জার্মানির। বল নিয়ন্ত্রণ, শট, আগ্রাসন— সবেতেই এগিয়ে থেকেছে তারা। সাতটি গোলের মধ্যে ছ’জন আলাদা স্কোরার। এতেই বোঝা গিয়েছে জার্মানি কতটা দলগত খেলা উপহার দিয়েছে।

তবে প্রশংসা করতেই হবে কুরাসাওকে। তারা দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। কিন্তু এক ফোঁটাও লড়াই ছাড়েনি। জনসংখ্যার বিচারে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসাবে বিশ্বকাপে খেলতে নেমে আগেই ইতিহাস তৈরি করেছিল তারা। এ দিন প্রমাণ করেছে, জনসংখ্যা যতই কম হোক, মাঠে যে ১১ জন নামবেন, তাঁরা জীবন দিয়ে খেলবেন।

ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের পর থেকেই জার্মানি এবং কুরাসাওয়ের ফুটবলের গুণমানের অভাব স্পষ্ট হয়ে যায়। জার্মানি ছেলেখেলা করতে থাকে কুরাসাওয়ের রক্ষণ নিয়ে। ইচ্ছেমতো তারা আক্রমণ করেছে, গোল করেছে। কিন্তু কুরাসাওয়ের মনোবল তুবড়ে দিতে পারেনি।

বড় দলের বিরুদ্ধে ছোট কোনও দল খেলতে নামলে সাধারণত ঘর সামলানোর দিকেই নজর দেয় বেশি। কুরাসাও যে আলাদা কিছু করেছে তা নয়। কিন্তু অতি রক্ষণাত্মক ফুটবল বা নেতিবাচক ফুটবলের রাস্তায় তারা হাঁটেনি। বল পেলে উড়িয়ে দেওয়ার নীতি নয়, তারা চেষ্টা করেছে পাস খেলে, লম্বা বল খেলে, হিসেবে ফুটবল খেলে আক্রমণে উঠতে। দুই দলের ফুটবলারের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ফারাকের কারণে তারা সফল হয়নি। কিন্তু লড়াইয়ের রাস্তা থেকে সরে আসেনি। দিনের শেষে এটাই কুরাসাওয়ের বড় প্রাপ্তি।

জার্মানিও এই ম্যাচ থেকে অনেকটা আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে। গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডর। শক্তির বিচারে জার্মানির গ্রুপ শীর্ষেই শেষ করার কথা। কিন্তু কুরাসাও বা আইভরি কোস্টের মতো প্রতিপক্ষ কখনওই জার্মানির কাছে শক্তি পরীক্ষার আসল মঞ্চ হতে পারে না। পাঁচ বার বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজ়িলকে ছুঁয়ে ফেলতে চাইলে নিজেদের খেলায় এখনও কিছুটা উন্নতি দরকার তাদের।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
Germany Football Team
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy