ময়ূরেশ্বর ও বোলপুর: ‘রানি রাসমতী’র পরে রবীন্দ্রসঙ্গীত বলতে গিয়ে ‘রবিশঙ্কর’। আবার বাংলা বলতে গিয়ে হোঁচট খেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বীরভূমের ময়ূরেশ্বরে সোমবারের সভায় অমিত শাহের এই উচ্চারণ নিয়ে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নদিয়ার করিমপুরে অভিষেকের কটাক্ষ, “বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখছেন। বাংলায় একটা শব্দ উচ্চারণ করতে পারেন না।” বিজেপির পাল্টা দাবি, শাহ বাঙালি নন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি হয়েও ভুল বাংলা বলেন।
শুক্রবার বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশের কর্মসূচিকে রানি রাসমণিকে ‘রানি রাসমতী’ বলে ফেলেন অমিত শাহ। এ বার রবীন্দ্রসঙ্গীত বলতে গিয়ে হোঁচট শাহ। সভার শুরুতে গায়িকা সাহানা বাজপেয়ী সম্পর্কে বলতে গিয়ে ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’-এর জায়গায় ‘রবিশঙ্কর’ উচ্চারণ করেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উচ্চারণ করতে গিয়েও সমস্যায় পড়েন শাহ।
নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে এই উচ্চারণ-বিভ্রাটের ভিডিয়ো পোস্ট করে তৃণমূল লিখেছে, “বাংলার সংস্কৃতি আপনাদের প্রচারের অঙ্গ নয়। বাংলা এই অপমানকে কখনও ক্ষমা করবে না।” তবে, প্রথমে ভুল করলেও পরে শুধরে নেন শাহ। ময়ূরেশ্বরের পরে দুবরাজপুরের সভায় তেমন কোনও ভুল হয়নি তাঁর।
শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, “ওঁদের কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশার। ওঁরা বাংলা সংস্কৃতি জানেন না।” এ দিন সিউড়ির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলছে রবীন্দ্রনাথ সান্যাল। বলছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়েছিল শান্তিনিকেতনে। এটুকু যাঁরা জানেন না, তাঁদের সোনার বাংলা বলার অধিকার নেই!”
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন যে, “শাহ বাঙালি নন। তাঁর ভুল হতেই পারে। কিন্তু খোদ বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীই তো বাংলা বলতে গিয়ে অহরহ ভুল বলেন। সে বেলা!”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)