Advertisement
E-Paper

ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম

ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পর্যায়ে এসে সেই ভিড় চোখে পড়ার কথা নয়। কিন্তু অনেককেই দেখা গেল ট্রাইবুনাল দফতরে চলে আসতে। নতুন দফতরের পরিস্থিতি দেখতে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম-ও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৫৭
Anandabazar dot com visited the tribunal set up for the SIR process at Joka

জোকায় ডায়মন্ড হারবার রোডের উপর ট্রাইবুনালের দফতর। —নিজস্ব চিত্র।

কাজ শুরু করে দিল এসআইআর ট্রাইবুনাল। বাদ পড়াদের নাম ভোটার তালিকায় ফিরবে কি না, তার বিচার শুরু হল। জোকায় ডায়মন্ড হারবার রোডের উপর ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন’ ভবনে করা হয়েছে ট্রাইবুনালের দফতর। ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি বিচারের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনই সোমবার দফতরে এসেছিলেন।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ কয়েক জন বাতিল ভোটারকে নিয়ে রায় দিয়েছে ট্রাইবুনাল। তবে পুরোদস্তুর কাজ শুরু হল সোমবারই। এখনও পর্যন্ত বাদ পড়া ভোটারদের সরাসরি হাজিরা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে অনলাইনে এবং জেলার প্রশাসনিক দফতরের মাধ্যমে (অফলাইনে) বহু আবেদন জমা পড়েছে। সূত্রের খবর, কয়েক হাজার করে আপিল এক-এক জন প্রাক্তন বিচারপতির কাছে পৌঁছে গিয়েছে।

এর আগে এসআইআরের জন্য বিভিন্ন দফতরের সামনে মানুষের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছিল। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পর্যায়ে এসে সেই ভিড় চোখে পড়ার কথা নয়। কিন্তু অনেককেই দেখা গেল ট্রাইবুনাল দফতরে চলে এসেছেন। নতুন দফতরের পরিস্থিতি দেখতে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম-ও।

Advertisement
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনের ভবন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনের ভবন। —নিজস্ব চিত্র।

ট্রাইবুনালের বহুতল এই অফিস ভবনের দু’টি গেট রয়েছে। অফিস চত্বরে ঢোকার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতা দেখে অনুমান করা যায় মালদহের মোথাবাড়িকাণ্ডের ছায়া তাতে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টও বার বার বিচারক বা প্রাক্তন বিচারপতিদের নিরাপত্তা নিয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছে। ভবনের সামনে রাস্তা জুড়ে দেখা গেল বাহিনীর জওয়ানদের। চাইলেই ট্রাইবুনাল অফিসে ঢুকে পড়া যাবে না।

গেট নম্বর ১

সোমবার বিকেলে দেখা গেল ‘নির্বাচন কমিশন’ স্টিকার সাঁটা গাড়ি করে আধিকারিকেরা বেরোচ্ছেন। কোনও গাড়ির সামনে থাকছে রাজ্য পুলিশের ‘পাইলট কার’। পিছনের গাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই গেট দিয়ে মূলত প্রাক্তন বিচারপতি, নির্বাচনী আধিকারিকেরা ট্রাইবুনাল অফিসে যাতায়াত করছেন। সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। দরজায় রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছেন ভবনের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা রক্ষীরাও। শুধু গেটে নয়, মূল রাস্তাতেও মোতায়েন রয়েছে রাজ্য পুলিশ। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ তৎপরতা নজরে পড়ার মতো।

ট্রাইবুনাল অফিসের পাশেই বাঁশ, কাপড় দিয়ে ঘেরা অস্থায়ী কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।

ট্রাইবুনাল অফিসের পাশেই বাঁশ, কাপড় দিয়ে ঘেরা অস্থায়ী কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। —নিজস্ব চিত্র।

গেট নম্বর ২

মেটাল ডিটেক্টর লাগানো এই গেটেও নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, নিরাপত্তারক্ষী এখানেও রয়েছেন। এই গেট দিয়ে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি শুধু ওই ভবনের বিভিন্ন অফিসের কর্তা বা কর্মচারীদেরই। সাধারণের প্রবেশ এখানেও নিষেধ। সাংবাদিক হিসাবে ট্রাইবুনালের খবর নিতে যাওয়ার কথা শুনেই সামনের নিরাপত্তারক্ষী হুকুম দিলেন, আরও দু’কদম পিছিয়ে দাঁড়ানোর। ট্রাইবুনালের কাজ কোথায় হচ্ছে বা এই বিষয়ে এখানে কার সঙ্গে কথা বলা যাবে, বার বার প্রশ্ন করেও কোনও জবাব পাওয়া গেল না।

ট্রাইবুনাল অফিসের সামনে বেশ কয়েক জনকে দেখা গেল যাঁরা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত খবর নিতেই এসেছেন। এঁদের মধ‍্যে ছিলেন বেহালার বাসিন্দা সন্দীপ কর্মকার। সন্দীপ জানালেন, দাদার জন‍্য এসেছেন। সকালে তাঁর দাদা খবর নিয়ে জেনেছেন, এখানে ট্রাইবুনাল বসছে। তাই দুপুরের মধ‍্যে ভাইকে পাঠিয়ে দিয়েছেন । যদিও নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে কথা বলার পর সন্দীপ বললেন, ‘‘শুধু হয়রানি হল, ভিতরে ঢুকতেই দিল না।”

নিরাপত্তা রক্ষীদের কড়া পাহাড়ায় ট্রাইবুনালের দফতরের প্রবেশ পথ।

নিরাপত্তা রক্ষীদের কড়া পাহাড়ায় ট্রাইবুনালের দফতরের প্রবেশ পথ। —নিজস্ব চিত্র।

এখনও ট্রাইবুনাল অফিসে প্রবেশে নিষেধ থাকলেও, পাশেই নির্মীয়মাণ বাঁশের তৈরি কাঠামো এবং অস্থায়ী শৌচালয় দেখে মনে হল, পরবর্তী সময়ে সরাসরি হাজিরার জন্যই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে। বাঁশ, কাপড় দিয়ে ঘেরা অস্থায়ী কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। কিছুটা জায়গা বালি ফেলে সমান করা হচ্ছে। এক কর্মী জানালেন, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাজ চলছে। আর দু’-এক দিনের কাজ বাকি। আরও বললেন, ‘‘পাশের (ট্রাইবুনাল) অফিসে ভিড় বেশি হয়ে গেলে, মানুষজন এখানে এসে যাতে অপেক্ষা করতে পারেন, তারই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’ জানালেন, এক-দেড় মাসের হিসাব মাথায় রেখে এই ব্যবস্থা। বাইরে অস্থায়ী শৌচালয় বানানোর কাজও চলছে।

ভবনের ভিতরে এখনও টুকটাক কাজ চলেছে বলে জানালেন এক কর্মচারী। বিচারকেরা কাজ করবেন বলেও শুনেছেন তিনি। তবে এখনও বেশ কয়েকটি ঘরেই কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

জোকার এই বাড়িটি সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের জন্য ব্যবহার করা হয়। এ বার ট্রাইবুনাল হচ্ছে বলে শুনেছেন স্থানীয় চা-বিক্রেতা রশিদ ঢালি। ভিতরে যে কাজ শুরু হয়েছে তা-ও দেখছেন। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর আনাগোনা বেড়েছে— তাতে খাবার বিক্রি কি বেড়েছে? রশিদ মনে করছেন ট্রাইবুনালের জন্য লোকজন এলেই বিক্রি বাড়বে।

Tribunal SIR JOka
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy