E-Paper

নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মঞ্চে মনোনয়ন ‘নির্দল’ শুভেন্দুর

নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সমনামীর নির্দল প্রার্থী হওয়া নিছক সমাপতন, না এর পিছনে রাজনীতির রহস্য রয়েছে।

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শুভেন্দু অধিকারী এ বারের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে নির্দল প্রার্থী!

এই শুভেন্দু সেই শুভেন্দু নন! বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে গেরুয়া শিবিরের হয়েই লড়ছেন। কিন্তু ভোটের আগে নন্দীগ্রামে চর্চায় এসেছেন তাঁর সমনামী।

এই শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার লোক। তিনি বেছে-বেছে নন্দীগ্রামেই নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এর আগে কাঁথির পুরভোটেও বিজেপির শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন আর এক শুভেন্দু অধিকারী। পরে অবশ্য তিনি মনোনয়ন তুলে নেন। হলফনামা দিয়ে নামও বদলে ফেলেন।

প্রশ্ন উঠছে, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সমনামীর নির্দল প্রার্থী হওয়া নিছক সমাপতন, না এর পিছনে রাজনীতির রহস্য রয়েছে। বিজেপির দাবি, এটা তাদের নেতার ভোট কাটার তৃণমূলীয় কৌশল। তবে তৃণমূল সে কথা মানেনি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গত ৩০ মার্চ মনোনয়ন জমা দেন। তিনি নিজে নন্দীগ্রাম -১ ব্লকের নন্দনায়কবাড় বুথের ভোটার। আর নির্দল হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসার রাজর্ষি নাথের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সোমবার, ৬ এপ্রিল। তাঁর বাবার নাম দুলালচন্দ্র অধিকারী। তিনি যাদবপুরের গড়ফা থানার ৩৬ নম্বর কালীতলা লেনের বাসিন্দা।

২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন শিশির অধিকারীর ছেলে শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন কাঁথি-১ ব্লকের বাসিন্দা আর এক শুভেন্দু অধিকারী। পরে, তিনি মনোনয়ন তুলে নেন এবং কাঁথি পুরসভার অস্থায়ী কর্মী হিসাবে নিযুক্ত হন। আপাতত ‘শান্তি কুঞ্জ’ (বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাঁথির বাড়ি) যে ওয়ার্ডে, কাঁথি পুরসভার সেই ১৫ নম্বর ওয়ার্ডেরই ভোটার অন্য শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘মনোনয়ন তুলে নেওয়ার পরেও সে বার খুব সমস্যা হয়েছিল। তাই আদালতে জানিয়ে পদবি বদলে চক্রবর্তী করেছি।’’

এ বারে যে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে নির্দল প্রার্থী হয়েছেন, তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁকে একাধিক বার ফোন ও মেসেজ করেও জবাব মেলেনি। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার অন্যতম সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, ‘‘তৃণমূল এ ভাবে চক্রান্ত করছে। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষ পদ্মফুল প্রতীক দেখে ভোট দেন। তাঁরা আসল আর নকলের ফারাক বোঝেন। নন্দীগ্রাম তার আপন শুভেন্দু অধিকারীকেই জেতাবে।’’ নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর বলেন, ‘‘প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরে বিষয়টি জেনেছি। গণতন্ত্রে যে কেউ, যে কোনও বিধানসভা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nandigram

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy