বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সব অভিযোগ শুনবেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কলেজের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে কোনও অভিযোগ নেবে না কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে স্বশাসন রয়েছে কলেজের।
মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান এক কর্তা। কলেজের ক্ষেত্রে এমন কোনও ঘটনা ঘটলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করতেও পারবে বিশ্ববিদ্যালয়। সূত্রের খবর, এ দিনের ‘স্টুডেন্টস গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল কমিটি’-র বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি ন্যায়পাল হিসেবে রয়েছেন। কমিটির এক সদস্য জানান এ দিন আলোচনা হয়েছে যে কোনও পড়ুয়ার থেকে অভিযোগ পাওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। ওই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপিকা সুদেষ্ণা লাহিড়ি।
মোট ৫ জনের ওই কমিটি প্রথমে অভিযোগ পেয়েই আলোচনায় বসে বিষয়টির নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করবেন। উপাচার্যও এই বিষয়ে পারমর্শ দিতে পারবেন। তার পরও সমস্যার সমাধান না হলে ন্যায়পালের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন পড়ুয়ারা।
তবে এ দিন স্পষ্ট করা হয়েছে, র্যাগিং এবং যৌন নিগ্রহের অভিযোগ নেবে না এই কমিটি। সে ক্ষেত্রে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি এবং আইসিসি-ই দায়িত্ব পালন করবে। বাকি সব অভিযোগ এই কমিটির কাছে করা যাবে।
তবে কলেজগুলির ক্ষেত্রে যে হেতু প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বশাসন রয়েছে, তাই সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পড়ুয়ারা নিজেদের কলেজেই অভিযোগ জানাতে পারবেন। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন বা পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়, অর্থাৎ যে সব বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত সেই সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা শুনবে বিশ্ববিদ্যয়ালয়।
ওই বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য জানান বিশেষ একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। পড়ুয়াদের কোনও ভাবে কোনও অভিযোগ করতে যেন সমস্যা না হয় সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।