তিন কেন্দ্রে ভোট, কেষ্ট অন্তরালেই

২০২৪ সালে, পুজোর আগে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে অনুব্রতকে এত দিন আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম বা মঙ্গলকোট এলাকায় দেখা যায়নি। এ বার বিধানসভা ভোটে দলের তারকা প্রচারক হিসাবে মঙ্গলকোটে গিয়েছিলেন। তবে কেতুগ্রাম ও আউশগ্রামে যাননি।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:১৭
অনুব্রত মণ্ডল।

অনুব্রত মণ্ডল। — ফাইল চিত্র।

ভোট হচ্ছে পড়শি জেলা পূর্ব বর্ধমানে। সে জেলার তিন বিধানসভা কেন্দ্র এক সময়ে ছিল তাঁরই দায়িত্বে। দলের সংগঠনে তাঁর কথাই ছিল ‘শেষ কথা’। কিন্তু বুধবার ভোটের আঁচ থেকে দূরে রইলেন অনুব্রত(কেষ্ট) মণ্ডল।

গত বিধানসভা ভোটে নির্বাচন কমিশন অনুব্রতকে ‘নজরবন্দি’ করেছিল। কমিশনের নজরকে ধোঁকা দিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন ভোটের দিন। বীরভূমের ১১টি আসনের মধ্যে ১০টি জেতে তৃণমূল। তাঁর দায়িত্বে থাকা বীরভূমের ১১টি বিধানসভা আসন তো বটেই, পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোট কেন্দ্রের ভোট পরিচালনাও নিজের মতো করে করেছিলেন তৃণমূলের তৎকালীন বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত। এ দিন, দ্বিতীয় দফায় পূর্ব বর্ধমানে ভোট হয়েছে। তবে কেষ্ট ছিলেন বোলপুরের নিচুপট্টিতে, নিজের বাড়িতে। যদিও তাঁর দাবি, ‘‘বাড়িতে বসেই মঙ্গলকোটের ভোটের খবরে নজর রেখেছি। ওখানে ভোট-প্রচারেও গিয়েছিলাম।’’

গরু পাচার মামলায় জেল হওয়ার আগে পর্যন্ত মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম এবং কেতুগ্রাম বিধানসভা এলাকার দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলে এসেছেন অনুব্রত। কিন্তু জেলে যাওয়ার পরে ওই কেন্দ্রগুলির দায়িত্ব পান পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। ২০২৪ সালে, পুজোর আগে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে অনুব্রতকে এত দিন আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম বা মঙ্গলকোট এলাকায় দেখা যায়নি। এ বার বিধানসভা ভোটে দলের তারকা প্রচারক হিসাবে মঙ্গলকোটে গিয়েছিলেন। তবে কেতুগ্রাম ও আউশগ্রামে যাননি।

কেতুগ্রামে প্রচারে ঝাঁপিয়েছিলেন বীরভূমের রাজনীতিতে কেষ্টর বিরোধী শিবিরের নেতা বলে পরিচিত জেলা সভাধিপতি তথা হাঁসনকেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখ। কারণ, কেতুগ্রামে প্রার্থী কাজলেরই দাদা শেখ সাহানেওয়াজ। এ দিন নানুরের পাপুড়ি গ্রামের বাড়িতে ‘ওয়ার রুম’ বানিয়ে কেতুগ্রামের ভোট পরিচালনায় নজর দিয়েছিলেন কাজল।

অনুগামীদের মতে, অনুব্রতের জেলযাত্রার পরে পরিস্থিতি আমূল বদলেছে। দলের ইচ্ছেতেই বীরভূমের সভাপতির দায়িত্ব গিয়েছে। গিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের তিন কেন্দ্রের দায়িত্বও। এখন তিনি স্রেফ জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক।

দলীয় কর্মীদের একাংশের দাবি, অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে জেলায় ক্রমেই প্রভাব বাড়িয়েছেন কাজল। এ বার ভোটে প্রার্থী নির্বাচনেও কাজলের প্রভাব ‘স্পষ্ট’। ২৩ তারিখ, প্রথম দফার ভোটের দিনও কেষ্ট ছিলেন এক প্রকার ‘নিষ্ক্রিয়’। সকালে ভোট দেওয়ার পরে, বাকি সময় বোলপুরে দলীয় কার্যালয়ে কাটিয়েছেন। সঙ্গে হাতে গোনা কয়েক জন অনুগামী। ২৯ এপ্রিলও অন্তরালে কাটল তাঁর।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Anubrata Mondal TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy