নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর দিনই আংশিক প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে বাম এবং বিজেপি। তার পর সোমবার বিকেল থেকেই প্রচারে নেমে পড়লেন দুই শিবিরের প্রার্থীরা। আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল প্রচারে নেমে মিষ্টিমুখ করলেন। নিজের হাতে দেওয়াল লিখন করেন তিনি। অন্য দিকে, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিপিএমের মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এ বার হুগলির উত্তরপাড়ার প্রার্থী। সোমবার সন্ধ্যাতেই উত্তরপাড়ায় মিছিল করেছেন তিনি।
রাজ্যে বিধানসভা ভোটে ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৯২টিতে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। বিজেপি ১৪৪টি আসনে প্রার্থীদের নাম জানিয়ে দিয়েছে সোমবারই। সেখানে ‘উল্লেখযোগ্য’ নাম শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা বিরোধী দলনেতা এ বার মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুর কেন্দ্রেও প্রার্থী হচ্ছেন। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামেও লড়াই করবেন তিনি। তৃণমূল এখনও প্রার্থিতালিকা প্রকাশ না করলেও মমতার কথায় ইঙ্গিত মিলেছে, তিনিই ভবানীপুরে প্রার্থী হবেন।
জেলায় জেলায় প্রচার শুরু
সোমবার সন্ধ্যা থেকে বিজেপির অগ্নিমিত্রা প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তাঁর বিধানসভা এলাকায়। দেওয়াল লিখনের কাজ করতে করতে মিষ্টিমুখ করেন তিনি।
উত্তরপাড়ায় বামেদের তরফে মিনাক্ষিকে প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিলই। নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগে একাধিক বার মিনাক্ষি উত্তরপাড়ার কর্মসূচি নিয়ে হাজির হয়েছেন। সন্ধ্যায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে উত্তরপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রচার সারেন তিনি। প্রচারে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সিপিএম-বিজেপি, দুই দলের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। সে দিনও পশ্চিমবঙ্গের বেকার ছেলেমেয়ে, মায়েদের সম্মান বিপদে ছিল। আজও তাঁরা বিপদে রয়েছেন। লড়াই আরও জোরদার হয়েছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘উত্তরপাড়া লড়বে। পশ্চিমবঙ্গকে পথ দেখাবে।’’ বামেদের ওই প্রার্থী জানান, উত্তরপাড়া সবথেকে বড় সমস্যা সেখানকার শিক্ষার হাল। সরকারি স্কুলগুলি ধুঁকছে। অসংখ্য কারখানা রয়েছে। সেগুলোকেও পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন। তা ছাড়়া গোটা উত্তরপাড়ার নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। তাঁরা জয়ী হলে ওই সব কাজ হবে।
হাওড়়ার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী করেছে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। ‘ভূমিপুত্রের’ নাম প্রকাশ্যে আসতেই শিবপুরের রামরাজাতলা এলাকায় বিজেপি কর্মীরা দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, রুদ্রনীলকে প্রার্থী করায় তাঁরা অত্যন্ত খুশি। প্রচারের সময় নষ্ট না করে রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। পঞ্চাশ হাজার ভোটের ব্যবধানে রুদ্রনীল জয়ী হবেন বলে আত্মবিশ্বাসী নেতাকর্মীরা।
উত্তর হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই-ও সোমবার থেকে প্রচারে নেমে পড়েছেন। কিংস রোডে শীতলা মন্দিরে পুজো দিয়ে জনসংযোগ সারেন। বিজেপি কর্মীরা তাঁকে মালা পরিয়ে মিষ্টি মুখ করিয়ে ‘বরণ’ করে নেন। তিনি বলেন, ‘‘গতবার সন্ত্রাস হয়েছিল। ভোট লুট হয়েছিল। সামান্য ব্যবধানে হেরেছিলাম। কিন্তু এ বার তা হবে না। জেতার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’’
বীরভূমের সিউড়ি বিধানসভার বাম প্রার্থী মতিউর রহমানও প্রচারে নেমে পড়েছেন। জেতার বিষয়েও তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। শুরু করে দিয়েছেন জনসংযোগ।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্রও জনসংযোগ শুরু করেছেন সোমবার সন্ধ্যায়। গোরাবাজার এলাকায় দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে দেওয়াল লিখন সারেন।
বামেদের প্রার্থিতালিকা প্রকাশ হতেই প্রচারে নেমে পড়েছেন শিলিগুড়ির প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী। রাজ্যে একাধিক পালাবদল ঘটলেও নিজের ওয়ার্ড থেকে এখনও হারের রেকর্ড নেই পাঁচ বারের ওই কাউন্সিলরের। বিকেলে বামফ্রন্টের সমস্ত প্রার্থীর সমর্থনে দার্জিলিং জেলা সিপিএমের দলীয় কার্যলয় থেকে একটি প্রচার মিছিল বার হয়। তাতে পা মেলান অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকারের মতো প্রবীণ সিপিএম নেতারা। শরদিন্দুর বিপরীতে বিজেপির প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আবার কটাক্ষ করেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবকে। কারণ, গৌতম এ বার নিজেই বলেছেন, তিনি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ছেড়ে শিলিগুড়িতেই লড়বেন। শঙ্কর বলেন, ‘‘কেউ যদি মনে করেন ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করবেম, সেখানে আমি ভালবাসার ফুল ছড়িয়ে মানুষের আস্থা জয় করব।’’
বিবেচনাধীন এক ভোটারের নাম রয়েছে বিজেপির প্রার্থিতালিকায়! সোমবার এ নিয়ে শোরগোল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরে যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে কলিতা মাজি ‘বিবেচনাধীন’। গুসকরার বাসিন্দা কলিতা পরিচারিকার কাজ করেন। বিবেচনাধীন ভোটারকে প্রার্থী করায় খোঁচা দিয়েছে শাসকদল।