মিছিলে মমতা। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘এ বার আরও খেলা হবে। বিজেপিকে ছক্কা মারুন। ছক্কা মেরে অক্কা করে দিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস জিতছে। বাংলার মানুষ জিতছে। এ বার আমাদের সিট আরও বাড়বে, তোমরা রসাতলে যাবে।’’
‘‘ভয় না পেলে কেউ বলেন, ‘কালীঘাটেও অ্যাটাক করব!’ যিনি বলেছেন তাঁকে আমি সাহায্য করেছি। রাজনৈতিক সৌজন্য। কিন্তু গ্যাস খেয়ে এ সব বলবেন না।’’
‘‘আর একটা নাম আছে, প্রথম অক্ষর শু...। আমি বলি, অনেক খেয়েছো। আগে খেতে পেতে না। এখন তৃণমূলকে বলছো চোর!’’
‘‘কেন চেঞ্জ করলেন সিপি সুপ্রতিমকে (সরকার)? টাকা ঢোকাবেন সে জন্য? হামলা করবেন যাতে ধরতে না পারেন সে জন্য? আমরাও নজর রাখব।’’
‘‘পুলিশকে ‘থ্রেট’ করে লাভ নেই। ওরা চাকরি করে। চাকরিটা আপনারা দেননি। ওরা নিজেদের যোগ্যতায় পেয়েছে চাকরি। এক মাসের জন্য বদলে আবার বলছে পরে দেখে নেবে... তোমরা ঘেঁচু করবে।’’
‘‘আমরা মাছের কাঁটা বাছি, আপনারা রাজনীতির উকুন বাছেন। সব চেঞ্জ করে দিন, তার পরেও বাংলার সরকার বদলাবে না। লিখে নিন।’’
মমতা বলেন, ‘‘আগে বাংলাটা ভাল করে শিখে আসুন। না-হলে বলার প্রয়োজন নেই। রানি রাসমণিকে বলছেন রসোমণি! মাতঙ্গিনীকে কী যেন বলেছিলেন, আমি উচ্চারণ করতে পারছি না
‘‘আমি আরএসএসকে আগে শ্রদ্ধা করতাম, গান্ধীজির মৃত্যুর পরে করি না... সুপ্রিম কোর্টের উপর আমাদের আস্থা আছে। যাঁদের নাম কাটা যাবে ট্রাইবুনালে যাবেন। আপনারা যাবেন। বিনা পয়সায় আইনজীবীরা সাহায্য করবেন।’’
‘‘মিটিং (ব্রিগেড) করার আগে আপনারা কী করলেন? শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা করলেন? লজ্জা থাকা দরকার। আমরা হামলার বদলে হামলা করব না। তবে আমরা আর সহ্য করব না। আগে বলেছি, বদলা নয় বদ চাই। এ বার বলছি, বিজেপি হটাও।’’
‘‘এত পাবলিসিটি না করে গ্যাসের দামটা ঠিক করতে পারতেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, এখানে কাজ নেই। তাই বাইরে যাচ্ছে বাঙালি। আমি বলি, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের কত মানুষ কাজ করেন? তোমাদের রাজ্যে মেধা নেই বলে বাঙালিদের নিয়ে যাও।’’
‘‘গত রাতে কী করলেন? মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ততাণ্ডব করছে। বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারি, ওঁকে বদলে দিয়েছেন। ওঁরা অ্যান্টি উইম্যান... এ যেন মগের মুলুক। এক জন মহিলাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিলেন। এক বার রাজ্যকে জিজ্ঞাসাও করলেন না! ডিজি কে ছিলেন পীযূষ পাণ্ডে। তাঁকেও এক কথায় বাদ। আপনারা শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালিদেরও বাদ দিচ্ছেন। আসলে আপনারা বেছে বেছে দেখছেন কারা বিজেপির হয়ে কাজ করবে। যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করবেন। মানুষের হয়ে কাজ করবেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘এই মিছিল ইলেকশনের আগেই ঠিক করা ছিল। কারণ, গ্যাসের দাম যে ভাবে বেড়েছে সে জন্য এই কর্মসূচি নিয়েছি। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে কেন্দ্র। আমি গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গে মিটিং করে জেনেছি, সঙ্কট নেই। আমরা বলছি সার্ভার ওপেন করুন। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই। গ্যাস দিন মানুষকে।’’
ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছোল মমতার মিছিল। মঞ্চে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে রয়েছেন বিরবাহা হাঁসদা, সায়নী ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নয়না দাস প্রমুখ।
মিছিল শুরু হয়েছে কলেজ স্কোয়ার থেকে। নেতৃত্বে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনের দিকে রয়েছেন তৃণমূলের ‘মহিলা ব্রিগেড’। মাথায় গ্যাস সিলিন্ডারের প্রতীকী গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অনেকে মিছিলে।
সোমবার কলকাতার কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করছেন মুখ্যমন্ত্রী। রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রতিবাদে তাঁর এই কর্মসূচি। গত সপ্তাহেই এসআইআর ইস্যুতে টানা পাঁচ দিন ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি করেছেন তিনি।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরের দিনই আবার রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক কর্মসূচি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও এই কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত। তবে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পরের দিন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষস্তরের আমলা থেকে পুলিশ আধিকারিকদের বদলি হয়েছে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy