কলকাতা প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসে আসন্ন নির্বাচনে দলের জয় নিয়ে প্রত্যয় দেখানোর সূত্রেই এ বার ভোটের ফলপ্রকাশের পরে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের দলীয় দফতরে মাছ-ভাত খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য! একই অনুষ্ঠানে আলাদা ভাবে এসে ৪ মে, ফলপ্রকাশের দিন ‘অনেক হিসাব’ বদলে যাওয়ার দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। এরই মধ্যে শনিবার বিজেপির হয়ে উত্তরপ্রদেশ, অসমের এবং কংগ্রেসের হয়ে হিমাচলপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা রাজ্যে এসে প্রচার করেছেন।
রাজ্যের শিল্প, অর্থনীতি, কৃষকের অবস্থা-সহ নানা প্রসঙ্গে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেছেন শমীক। সেই সূত্রেই তাঁর বক্তব্য, “এই নির্বাচন তৃণমূল বনাম বিজেপি নয়। এটা তৃণমূল বনাম মা-মাটি-মানুষের লড়াই, যেখানে মানুষ জিতবেন।” অতীতের ভোট থেকে ‘শিক্ষা’ নিয়ে তাঁরা এ বার নির্বাচনে নেমেছেন জানিয়ে শমীকের তোপ, “১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গ ‘লুম্পেনদের রাজধানী’ হয়ে উঠেছে।” এর সঙ্গেই রাজ্যের ঋণ-‘বৃদ্ধি’, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ফলে শিল্পের জন্য ‘ভুল বার্তা’, অনুপ্রবেশের মতো নানা বিষয়ে ফের তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যবাসীর খাদ্যাভ্যাসে ‘হস্তক্ষেপে’র যে অভিযোগ তৃণমূল করছে, তার জবাব দিতে গিয়ে শমীকের বক্তব্য, “৪ মে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রত্যেক সাংবাদিককে ‘ফিশ ফ্রাই’ খাওয়াব। আমরা রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে চাই। তাই ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের চেনা ছবি বদলে ৬ মে সন্ধ্যায় আমাদের প্রতিটি দলীয় দফতরে তৃণমূল কর্মীদের আমন্ত্রণ রইল। এক সঙ্গে মাছ-ভাত খাব।”
একই অনুষ্ঠানে এসে কংগ্রেস সরকার গড়বে বলে দাবি করেছেন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর। তাঁর দাবি, “৪ মে পশ্চিমবঙ্গের অনেক সমীকরণ বদলে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে মূল লড়াই বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের। তৃণমূল অনেক পিছনে থাকবে। একমাত্র কংগ্রেস ২৯৪টি আসনে লড়ছে। তাই অন্যদের থেকে কংগ্রেস একক শক্তিতে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক জায়গায় আছে।” বিজেপি ও তৃণমূলকে এক পঙ্ক্তিতে রেখে শুভঙ্করের সংযোজন, “আরএসএসের নিয়মিত (‘রেগুলার’) ছাত্র বিজেপি। আর দূরশিক্ষায় (‘ডিসটেন্স’) ক্লাস করে তৃণমূল। তাই বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে তৃণমূলকে এবং তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া।” এসআইআর-প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁর তোপ, “ভোটাধিকার কেড়ে ভোট করানোর অভূতপূর্ব ব্যবস্থা এটি।” সংসদে মহিলা বিল নিয়ে ভোটাভুটির পরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করা নিয়ে শুভঙ্করের ব্যাখ্যা, “রাহুল বিরোধী দলনেতা। যারা ওই ভোটে যোগ দিয়েছিল, সেই প্রতিটি দলের নেতাকেই রাহুল ফোন করেছিলেন। রাজ্যের লড়াই রাজ্যের মতোই হবে, রাজ্যে এসে এটা রাহুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আমার বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে এসে ফের তা স্পষ্ট করবেন।”
এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গে সভা করতে এসে বিজেপি-শাসিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথেরা ফের নিশানা করেছেন তৃণমূলকে। হিমন্তের বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভগবানের নাম কম নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম বেশি নিচ্ছেন।” উত্তরবঙ্গে এসে যোগী বলেছেন, “বাংলায় কারখানা বন্ধ। ফসলের দাম নেই। কারণ সব টাকা তৃণমূল খেয়ে নিচ্ছে।” অনুপ্রবেশ-প্রশ্নেও তৃণমূলকে নিশানা করেছেন যোগী। পাশাপাশি, কলকাতায় এসে কংগ্রেস-শাসিত হিমাচলপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংহ সুখু বলেছেন, “এই রাজ্যে প্রায় ৫০ বছর ক্ষমতায় না-থাকার পরেও ২৯৪টি আসনে লড়ছে কংগ্রেস। এটাই কংগ্রেসের মতাদর্শের জোর। আর জাতীয় স্তরে বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস। এটা মাথায় রেখেই যেন সবাই ভোট দেন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)