খড়্গপুরে বিজেপি কার্যালয় ভাঙচুর বিজেপি কর্মীদের! নারায়ণগড়ে প্রার্থী বদলের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ, ভাঙচুর। প্রার্থী বদলাতেই হবে। এমনই দাবি তুলে খড়্গপুরে জেলা বিজেপির সদর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালালেন বিজেপি কর্মীরা। অস্বস্তিতে নেতৃত্ব। শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরই নয়, নানা জেলায় শাসক-বিরোধী দুই শিবিরেই ক্ষোভ-বিক্ষোভের ছবি ধরা পড়ল শনিবারও।
এ পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। তৃণমূল একলপ্তে ২৯১টি বিধানসভার প্রার্থীদের নাম জানিয়ে দিয়েছে। তার পর থেকে টিকিট না-পাওয়া নেতা এবং তাঁদের অনুগামীদের ‘বিদ্রোহ’ দেখা যাচ্ছে নানা জায়গায়। শনিবার ‘চাঞ্চল্যকর’ ছবিটি দেখা গেল খড়্গপুরে। অবিলম্বে নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী রামপ্রসাদ গিরির বদলে অন্য কাউকে প্রার্থী করতে হবে। এই দাবি নিয়ে খড়্গপুরের কৌশল্যায় বিজেপির সদ্য উদ্বোধন হওয়া জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান কর্মীদের একাংশই। চেয়ার-টেবিল থেকে কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়। গন্ডগোলের পরে জেলা বিজেপির সভাপতি সুমিত মণ্ডল বলেন, ‘‘ঠিক কী হয়েছে, যাঁরা এসেছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা না-বলা পর্যন্ত জানা সম্ভব নয়। তবে ওঁদের মধ্যে যে ক্ষোভ ছিল সেটা আগে থেকে জানা ছিল না।’’
তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, নারায়ণগড় থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে রমাপ্রসাদের নাম ঘোষণার পরেই ওই এলাকায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ শুরু হয়। শনিবার বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, সাধারণ ভোটারেরাও ওই প্রার্থীকে নিয়ে অখুশি। তাই প্রার্থী বদল করতেই হবে।
প্রার্থী-অসন্তোষে হাওড়ার বালিতে বিজেপিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। ওই কেন্দ্রে পদ্মশিবির প্রার্থী করেছে সঞ্জয় সিংহকে। কিন্তু নেতা-কর্মীদের দাবি, ‘ভূমিপুত্র’কে প্রার্থী করতে হবে। শনিবার বালি, বেলুড়, লিলুয়া অঞ্চল থেকে বিজেপি-র প্রায় ১০০ কর্মী-সমর্থক বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন। বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্রের হাত ধরে যোগদান করেন তাঁরা। উল্লেখ্য, শেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন সঞ্জয় সিংহ। তিনি পরাজিত হন। এ বার তাঁকে বালি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বালির বিজেপি নেতৃত্ব এবং কর্মীদের একাংশ। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, তাঁর জয় নিশ্চিত। যদিও সঞ্জয়ের দাবি, কর্মীরা তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন। যে টুকু বিরোধিতা আছে, তা অচিরে মিটে যাবে।
নদিয়ার রানাঘাটে বিজেপির দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে সেখানে হাজির হন কয়েকশো কর্মী-সমর্থক। তাঁদের দাবি, রানাঘাট উত্তর-পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক তথা এ বারের প্রার্থী অসীম বিশ্বাস এবং রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী অসীম বিশ্বাসকে বদলাতে হবে। দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। বিজেপির ‘গড়’ বলে পরিচিত রানাঘাটে খোদ জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং বিক্ষোভের ঘটনায় অস্বস্তিতে জেলা নেতৃত্ব।