E-Paper

মহিলাদের ভোট সরেই কি চার গুণ বাড়ল ব্যবধান

এই কেন্দ্রে প্রায় ৪০ শতাংশ মতুয়া ভোটার রয়েছে। এসআইআরের প্রথম ধাপে ভুয়ো ও স্থানান্তরিত ভোটার মিলিয়ে ১৬ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়ে।

সুদেব দাস

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৯:০৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআর, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ ইত্যাদি সত্ত্বেও গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি ব্যবধানে রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রে জয় পেয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর কারণ মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের পাশাপাশি মহিলাদের একটা বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে।

রানাঘাট দক্ষিণ দীর্ঘদিন ধরেই মতুয়া অধ্যুষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার সময় এই কেন্দ্রে জয়ী হয়। ২০১৬ সালে সিপিএম প্রার্থী রমা বিশ্বাস জিতেছিলেন। ২০২১ সালে প্রথম বার বিজেপির দখলে যায় কেন্দ্রটি, তাদের প্রার্থী মুকুটমণি অধিকারী ১৬,৫১৫ ভোটে জয়ী হন। আবার ২০২৪ সালে দলবদলের পর উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তিনিই প্রায় ৪০ হাজার ভোটে জয়ী হন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উপনির্বাচনের ফল সাধারণত শাসক দলের পক্ষে যায়, ফলে তাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। কিন্তু এ বার বিজেপি প্রার্থী অসীমকুমার বিশ্বাসের ৬৪,৪৬৪ ভোটে জয় বড় লাফ বলেই ধরা হচ্ছে।

এই কেন্দ্রে প্রায় ৪০ শতাংশ মতুয়া ভোটার রয়েছে। এসআইআরের প্রথম ধাপে ভুয়ো ও স্থানান্তরিত ভোটার মিলিয়ে ১৬ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়ে। দ্বিতীয় ধাপে প্রায় তিন হাজার ‘আনম্যাপড’ ভোটারের নাম বাদ যায়। তৃতীয় ধাপে ‘তথ্যগ্রাহ্য় অসঙ্গতি’ থাকায় আরও প্রায় ২০ হাজার নাম বাদ পড়ে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে, যাদের বড় অংশই হিন্দু তথা মতুয়া। এর পরেও বিজেপির এত বড় জয় লক্ষণীয়।

এ প্রসঙ্গে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “কেন এমন ফল হল, তার স্পষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বুথভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে খতিয়ে দেখা হবে।” তবে মহিলা ভোটের একাংশ তৃণমূলের হাত থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টা কেউই উড়িয়ে দিতে পারছে না। প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা নিয়েও মতুয়া্ মহিলাদের একাংশ তাঁদের ভোট দিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করে কিছু দিন আগেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ তথা তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী মহুয়া মৈত্র।

অন্য দিকে, এই বড়সড় জয়ের পর রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অসীমকুমার বিশ্বাসের দাবি, “কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকার সুবিধা কী ভাবে প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে কাজে লাগে, তা আমরা নির্বাচনী প্রচারে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরতে পেরেছি।” তাঁর মতে, “ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে নয়, আমাদের দলের পদ্ম প্রতীক দেখেই মানুষ ভোট দিয়েছেন। সেই কারণেই গত বারের তুলনায় এ বার জয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Ranaghat BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy