E-Paper

সর্বোচ্চ ব্যবধান! গুঞ্জন তৃণমূলে

পরে লিড পায় বিজেপি। আসলে এই বিধানসভায় তৃণমূলের সবচেয়ে ভাল ফলাফলের জায়গা উত্তরের কিছু পঞ্চায়েত।

সাগর হালদার  

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৯:১৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিধানসভা হওয়ার পরে এই প্রথম কোনও দল সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয়ী হল তেহট্ট বিধানসভায়। ২৮২৫৩ ভোটে জিতে বিধায়ক হলেন বিজেপির সুব্রত কবিরাজ। তবে কোন সমীকরণে তৃণমূলের ভরাডুবি হল তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তেহট্ট, চাপড়া ও পলাশিপাড়া বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১১ সালে আলাদা বিধানসভা হয় তেহট্ট। সেই সময় বাম সরকারের পতন হলেও প্রায় ১৯ হাজার ভোটে তেহট্টে জয়ী হয়েছিল সিপিএম। ২০১৬ সালে ১৭৩৯৬ ভোটে জয়ী হয় তৃণমূল। ২০২১ এও প্রায় সাত হাজার ভোটে জিতেছিল তৃণমূলের তাপস সাহা। তবে এ বারে আর তেহট্ট বিধানসভা ধরে রাখতে পারল না তৃণমূল।

গোটা রাজ্যের মতো তেহট্টেও সাফ ঘাস ফুল শিবির।

গত সোমবার গণনার শুরুতে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ পোদ্দার। পরে লিড পায় বিজেপি। আসলে এই বিধানসভায় তৃণমূলের সবচেয়ে ভাল ফলাফলের জায়গা উত্তরের কিছু পঞ্চায়েত। যেমন নারায়নপুর ১ ও ২ এবং কানাইনগর পঞ্চায়েত। গত বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই তিন পঞ্চায়েত থেকেই প্রায় ২৪ হাজার ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এ বারে পাল্টেছে অঙ্ক। হুমায়ুন কবীরের দল এজিইউপি, সিপিএম ও কংগ্রেস ওই পঞ্চায়েতগুলিতে সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসিয়েছে। এজিউপির প্রাপ্য মোট ভোট ৫১৩৪, যার সিংহভাগ ভোটই ওই তিন পঞ্চায়েত থেকেই এসেছে বলে খবর।

আরও জানা গিয়েছে, যে সকল পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির লিড ছিল, সেই সকল এলাকায় ভোট কাটতেই পারেনি তৃণমূল। বরং লিড বেড়েছে বিজেপির। জানা গিয়েছে, দিলীপ পোদ্দার যে পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সেই বেতাই ২ পঞ্চায়েতে গত লোকসভার থেকে প্রায় দু’হাজার ভোট বেশি পেয়েছে পদ্ম ফুল শিবির। ঠিক এমন ভাবেই ছিটকা, নাটনা, বেতাই ১, তেহট্ট, শ্যামনগর, রঘুনাথপুর পঞ্চায়েতে ভোটের সংখ্যা বেড়েছে বিজেপির। এই ভরাডুবি কেন হল তৃণমূলের। প্রার্থী ঘোষণার পরে থেকে একটা অংশ ক্ষিপ্ত ছিল তৃণমূল শিবিরের অভ্যন্তরেই। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন্দল বারবারপ্রকাশ্যে এসেছে।

সেই তৃণমূলের একাধিক নেতৃত্ব জানিয়েছেন, কোন্দল সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি প্রার্থী ঘোষণার পরে। এমনকী, প্রাক্তন বিধায়ক তাপস সাহার মৃত্যুর পরে তাপসপন্থীদের প্রকাশ্যে সংগঠন সামলাতে দেখা যায়নি। এমনকি তাদের প্রচারে এনে সংগঠন মজবুত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে ওই দলের একাংশ নেতাকর্মীরা। আসলে ব্লক সভাপতি দিলীপ পোদ্দারই তৃণমূলের প্রার্থী হন এ বারে। বেশ কিছু নেতা এও জানান, দলের হয়ে প্রচারে বেরিয়েও ভোট করানোর বিষয়ে পিছিয়ে ছিলবহু নেতা।

তবে তৃণমূলের ভরাডুবিতে তাপস সাহার ছেলে সাগ্নিক সাহা বলেন, “জেতা কেন্দ্রের এমন ভরাডুবি হয় কি করে! বাবা তিলে তিলে এখানে সংগঠন মজবুত করেছিল। এখন সেই কেন্দ্র হাতছাড়া হল। অত্যন্ত দুঃখজনক।” তৃণমূলের প্রার্থী দিলীপ পোদ্দার বলেন, “নেতাকর্মীরা ভোট করায়নি এটা বলা ঠিক নয়। আসলে এবার ধর্মীয় মেরুকরণেরভোট হয়েছে।”

বর্তমান বিধায়ক সুব্রত বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিয়েছে। এটা হওয়ার ছিল। মানুষ চোর, দুর্নীতিবাজ, তোষণের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Tehatta

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy