E-Paper

হিংসা নয়, বার্তা অতীতে ঘরছাড়া হওয়া দম্পতির

২০২১ সালে বিজেপিকে হারিয়ে রাজ্যে বড় জয় পায় তৃণমূল। বিজেপির অভিযোগ, এর পরেই বিরোধীদের উপরে অত্যাচার নেমে আসে।

বিপ্লব ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৯:৪৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে হিংসার জন্য তাঁকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। বেশ কয়েক দিন আশ্রয় নিতে হয়েছিল জঙ্গলে। সেই ঘরছাড়া পরিবারের সদস্যেরা এ বার রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে চাইছেন, বিরোধীদের যেন এই অবস্থা না হয়। গোপালপুরের বাসিন্দা, পেশায় শিক্ষক অনির্বাণ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী মামণি চক্রবর্তীর আবেদন, কাউকে যেন ঘরছাড়া না হতে হয়। কোনও রক্তপাত যেন না ঘটে। তাদের এই আবেদনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

২০২১ সালে বিজেপিকে হারিয়ে রাজ্যে বড় জয় পায় তৃণমূল। বিজেপির অভিযোগ, এর পরেই বিরোধীদের উপরে অত্যাচার নেমে আসে। বহু বিজেপি নেতা-কর্মীকে ঘরছাড়া হতে হয়। গোপালপুরের অনির্বাণ জানান, তাঁরা এলাকায় বিজেপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তখন পরিবারকে বাঁচাতে ঘরছাড়া হয়েছিলেন তাঁরা। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে ২ মে ফল ঘোষণার পরে তাঁদের বাড়ির সামনে হামলা শুরু করে তৃণমূলের লোকজন। বোমাবাজি, ভাঙচুর চলে। মারধর করা হয় তাঁকে। নিজে প্রায় ২৫ দিন আশ্রয় নিয়েছিলেন বৃন্দাবনপুরের জঙ্গলে। তার স্ত্রী মামণি সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতে ছিলেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় বাড়ি ফেরেন। তবে তার পরেও নানা সময়ে তৃণমূলের লোকজন হুমকি দিত, অভিযোগ তাঁর।

সদ্য রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তাতে আনন্দিত ওই দম্পতি। তবে ভোটে জিতলেও যাতে বিরোধীদের ঘরছাড়া না হতে হয়, সে আবেদন করছেন ওই দম্পতি। মামণি বলেন, ‘‘নিজের ঘর ছেড়ে জঙ্গলে বা অন্যত্র বসবাস করা যে কী যন্ত্রণার, তা আমরা অনুভব করেছি। তাই আমাদের দল জিতলেও বিরোধীদের যেন কোনও সমস্যা না হয়, সে দিকটিও দেখা দরকার।’’ অনির্বাণ বলেন, ‘‘ভোটে হার-জিত আছে। এক দল জিতবে, এক দল হারবে। কিন্তু জিতে গেলেই যে পরাজিত দলের কর্মীদের উপরে অত্যাচার করতে হবে, তা ঠিক নয়। সবাই মিলেমিশে রাজনীতি করাই ভাল।’’ তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন নিজেরা। সে অভিজ্ঞতা থেকে চাইছেন, তেমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হোক।

বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, ‘‘২০২১ সালে তৃণমূল আমাদের বহু কর্মীকে ঘরছাড়া করেছিল। তবে আমরা চাই, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাক। কেউ হিংসায় উস্কানি দিলে প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’’ কাঁকসার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kanksa

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy