E-Paper

একা শিক্ষিকা বসে পড়ুয়াহীন স্কুলে, আবেদন বদলির

২০২৩ সালে শিক্ষিকার সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে বদলি করে দেওয়া হয় আমতার একটি স্কুলে। ফলে শিক্ষিকার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় দুই।

নুরুল আবসার

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৬:৫৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বছর পঁচিশ আগেও এই স্কুলে ছিল প্রায় ৩০০ ছাত্রী ও ১২ জন শিক্ষিকা। এখন সেই বিদ্যালয়ে একটিও ছাত্রী নেই। শিক্ষিকা মাত্র এক জন। দেড় বছর ধরে তিনি প্রতিদিন স্কুলে আসছেন। ছাত্রী না থাকায় বসে বসেই সময় কাটছে তাঁর।এমনই হাল জয়পুরের খালনা যোগমায়া বালিকা বিদ্যালয়ের। মল্লিকা মজুমদার নামে সেই শিক্ষিকা বলেন, ‘‘রোজ স্কুলে আসছি। কিন্তু আসল যে কাজ সেই পড়ানোর সুযোগই পাচ্ছি না। এটা একটা যন্ত্রণা।’’

১৯২৫ সালে পথচলা শুরু করেছিল এই স্কুল। প্রথমে এটি ছিল উচ্চ প্রাথমিক। পরে সেটি দশম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয়। এলাকাবাসী জানান, একটি গ্রাম্য বিবাদের জেরে বছর পনেরো আগে এইস্কুলের এক কিলোমিটারের মধ্যেই আরও একটি বালিকা বিদ্যালয় তৈরি হয়। তারপর থেকে যোগমায়া বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী কমতে থাকে। শিক্ষিকারা অবসর নেওয়ার পরে আর নতুন শিক্ষিকাও নিয়োগ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, শিক্ষিকা নিয়োগ না হওয়ার জন্যও অনেক অভিভাবক এখানে মেয়েদেরপড়তে পাঠাননি।

২০২৩ সালে শিক্ষিকার সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে বদলি করে দেওয়া হয় আমতার একটি স্কুলে। ফলে শিক্ষিকার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় দুই। ছাত্রীর সংখ্যা ছিল পাঁচ জন। ২০২৫ সালের গোড়ায় সেই পাঁচজন ছাত্রীকেও অভিভাবকেরা অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। ফলে ছাত্রী শূন্য হয়ে যায় স্কুলটি।

তখন দু’জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। তাঁরাও ২০২৫ সালের গোড়ায় অবসর নেন। দু’জন শিক্ষিকার মধ্যে এক জন আবার বছর দুই আগে বদলি হয়ে যান। সেই থেকে একজন শিক্ষিকাই স্কুল সামলাচ্ছেন। তাঁকে আবার মাস ছয়েক আগে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা করে দেওয়া হয়। মল্লিকা নামে ওই শিক্ষিকা বলেন, ‘‘স্থানীয়বিধায়ক-সহ জেলা শিক্ষা দফতরের কাছে আবেদন করেছি, যাতে আমাকে অন্য কোনও স্কুলে বদলি করে দেওয়া হয়।’’

স্কুলটি পড়ে আমতা বিধানসভা এলাকায়। বিজেপির বিধায়ক অমিত সামন্ত বলেন, ‘‘আমি জেলা স্কুল শিক্ষা দফতরের সঙ্গে ওই শিক্ষিকাকে অন্য কাছাকাছি কোনও স্কুলে বদলি করার ব্যপারে কথা বলব।’’ উলুবেড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা স্কুল পরিদর্শক শেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘বিষয়টি আমাদের চিন্তাভাবনায় আছে। দেখা যাক কী হয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Howrah District Jaypur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy