শিবসেনার ভাঙন নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামিকাল শিন্দে শিবিরের সঙ্গে মিশে যাওয়া নিয়ে সরকারি ভাবে ঘোষণা করতে পারে উদ্ধব গোষ্ঠীর বিদ্রোহী শিবসেনা সাংসদেরা। তার আগে আজ মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে একটি জনসভায় শাহ দাবি করেন, এত দিন আমাদের শিবসেনাকে শিন্দে গোষ্ঠী বলে ডাকতে হত। আর তার দরকার হবে না। এখন সবাই শিবসেনা পরিবারের।
শাহ ওই দাবি করলেও, লোকসভায় উদ্ধবের পক্ষে এখনও তিন সাংসদ রয়েছেন। সূত্রের মতে, উদ্ধব গোষ্ঠীর পক্ষে থাকা ন’জন সাংসদের মধ্যে যে ছ’জন সাংসদ বিদ্রোহ করে বেরিয়ে এসেছেন, আগামিকাল তাঁরা সরকারি ভাবে শিবসেনার শিন্দে গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারেন। সূত্রের মতে, ওই সাংসদেরা ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এসে গিয়েছেন। আগামিকাল লোকসভার সচিবালয় মিশে যাওয়ার বিষয়টি বুলেটিনে জানানোর পরেই অজ্ঞাতস্থান থেকে আত্মপ্রকাশ করে সাংবাদিক বৈঠক করতে পারেন বিদ্রোহী সাংসদেরা। তা হলে ২০২২ সালে ফের বড় ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে শিবসেনা। শাহ বলেন, ‘‘আগে শিবসেনার শিন্দে গোষ্ঠী ছিল। এখন থেকেএকটাই শিবসেনা।’’
এ দিকে, যে ছয় সাংসদ তাঁর সঙ্গ ছেড়ে এনডিএ-তে যোগ দিতে চলেছেন, তাঁদের লোকসভা কেন্দ্রে সফর করে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে। দলের বক্তব্য, মানুষের কাছে বিচার চাইতে এবং সাংসদদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনেই ওই সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উদ্ধব।
তৃণমূলকে ভাঙানোর পরে শিবসেনায় ওই ভাঙনের ফলে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার প্রশ্নে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল এনডিএ। বিজেপি সূত্রের মতে, ভাঙনের মুখে সমাজবাদী পার্টিও। ওই দলের অন্তত দু’ডজন সাংসদ অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বে ক্ষুব্ধ। ওই সাংসদেরা যদি এসপি ভেঙে বেরিয়ে এসে এনডিএ-কে সমর্থন করেন বা ভোটাভুটির সময়ে অনুপস্থিত থাকেন, তা হলেই লোকসভায় সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করিয়ে নিতে পারবে শাসক শিবির। এ দিন অনুপ্রবেশ প্রশ্নে কংগ্রেস ও উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা গোষ্ঠীকেও আক্রমণ করেছেন শাহ। বলেন, ‘‘কংগ্রেস ও কংগ্রেসের কোলে বসে থাকা উদ্ধব ঠাকরে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটকে পুঁজি করে অস্তিত্ব রক্ষা করতে চাইছেন। এ দেশ ধর্মশালা নয়। যাঁরা এ দেশের বাসিন্দা তাঁরাই কেবলএ দেশে থাকবেন।’’
এই দলবদলের মধ্যেই, প্রায় কুড়ি বছর পুরনো কংগ্রেস নেতা পবনরাজে নিম্বলকর হত্যা মামলায় সমস্ত অভিযুক্তকে আজ প্রমাণের অভাবে মুক্ত করে দিয়েছে মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত। নিহতের ছেলে ওম রাজে নিম্বলকর উদ্ধব গোষ্ঠীর বিদ্রোহী সাংসদ। উদ্ধব গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউতের কথায়, ‘‘বাবার হত্যা মামলায় আশা দেখিয়ে ওম রাজকে দলে টেনেছিল এনডিএ। আজ আদালতের রায় অন্য কথা বলছে।’’ ওম জানিয়েছেন, তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাবেন। ওই ঘটনায় আজ যে ন’জন ছাড়া পেয়েছেন, তাঁদের অন্যতম পদমসিন বাজিরাও পাটিল। তিনি রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পওয়ারের সৎ ভাই। ‘ইন্ডিয়া’ নেতৃত্বের কটাক্ষ, আদালতের ফলাফল বিপক্ষে গেলে মহারাষ্ট্রে সরকারের শরিক এনসিপির ক্ষুব্ধ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তা হয়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)