এসআইআর’য়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘুর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাতিল হওয়া সত্ত্বেও শমসেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, লালগোলা, সাগরদিঘির আসন ধরে রাখল তৃণমূল।
তৃণমূলের এই ভরাডুবির মধ্যেও ৯টির মধ্যে ৫টি আসন ধরে রেখে জেলায় দলের কিছুটা হলেও মান রেখেছে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা।
কী করে এই কেন্দ্রগুলো ধরে রাখল তৃণমূল? অনেকেরই দাবি, এখানে যে সব পরিবারে কারও নাম বাদ পড়েছে, সেখানে পরিবারের অন্য সদস্যেরা তৃণমূলকেই ভোট দিয়েছেন। তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিও এই এলাকায় ভাল।
শমসেরগঞ্জের নতুন লোহরপুরের মহম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “আমার বুথ নম্বর ২০১। বাদ পড়েছে ৪২৯ জনের নাম। পাশের বুথ ২০০ নম্বর। বাদ পড়েছে ৭১৩ জনের নাম। সব বুথেই কমবেশি এমন। বাদ গেছে ছেলের ও নিজের নাম।অথচ বাবার নাম ছিল ২০০২ সালের তালিকায়। এ নিয়ে ক্ষোভ আছে সকলেরই।এর দায় নির্বাচন কমিশনের। প্রার্থীদের যার যাকে ভাল লেগেছে ভোট দিয়েছে।তাতে তৃণমূল জিতেছে।”
সেনাউল শেখ বলছেন, “আমার পরিবারে বাদ গেছে বাবা, মা ও তিন ভাই। বাবা ও মায়ের নাম ২০০২ সালে ছিল। এই নাম দেওয়ার সঙ্গে তৃণমূল বা কোনও দল জড়িত তা তো নয়। তাই যে যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। বেশি ভোট পেয়ে তৃণমূল জিতেছে।”
তৃণমূল সূত্রের খবর, বিধায়কের সঙ্গে জঙ্গিপুরে পুর প্রতিনিধিদের দ্বন্দ্বও জঙ্গিপুরে দলের হারের বড় কারণ। তা ছাড়া একই লোককে একাধিক পদ দেওয়ার ফলে দলের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছিল। দলের জেলা নেতারা এ সব অনিয়ম দেখেও এ সব বন্ধ করতে পারেননি। তারই ফলশ্রুতি এই বিপর্যয় মুর্শিদাবাদেও।
জেলা তৃণমূল সভাপতি সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, “রাজ্য জুড়েই দল সঙ্কটে পড়েছে। তার মধ্যেও আমরা যে ৫৫ শতাংশ আসন ধরে রাখতে পেরেছি এটাই ভরসার। তবে ভুলত্রুটি তো কিছু ছিলই। নবগ্রাম, খড়গ্রামে তৃণমূল হারবে এটা ধারণা ছিল না। মানুষের ক্ষোভ যে এ ভাবে বিস্ফারিত হবে ভাবতে পারিনি আমরা। কেন এটা হল আমরা আলোচনায় বসব তা নিয়ে। তবে এসআইআর-এ বহু নাম বাতিল হলেও শমসেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘি ও লালগোলাতে বহু নাম বাদ পড়া সত্ত্বেও তৃণমূল সেগুলিতে জিতেছে।”
শমসেরগঞ্জে বাদ গিয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার বিবেচনাধীনের নাম। এ নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেও আশঙ্কা ছিল যে মানুষের ক্ষোভ তাদের ভোট বাক্সে পড়তে পারে। কিন্তু তা পড়েনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)