২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। তৃণমূল সরকার ধরাশায়ী হয়েছে বিজেপির কাছে। ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদল। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতন এবং বিজেপির জয় নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি-ঘনিষ্ঠ পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। ফোন তুলে প্রথমেই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। বিজেপির জয় ও মমতার পরাজয় নিয়ে কী মত বলিপাড়ার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের?
দীর্ঘ বহু বছর তিনি মুম্বইয়ে রয়েছে। অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন বাংলায় বিজেপির হয়ে লড়তে। যদিও রাজি হননি তিনি। বিশ্বজিতের কথায়, ‘‘আসলে সেই সময় বাংলায় বিজেপি বলে তো কিছু ছিল না। যদিও তখন বম্বে থেকে বাংলায় গিয়ে বিজেপির হয়ে প্রচার চালিয়েছি, সেটাও অটলজির অনুরোধে। সেই সময়ে বাংলায় একটাই আসন ছিল বিজেপির – তপন শিকদার। আর একজন অভিনেতাই এই দলের হয়ে প্রচার করত, সেটা আমি। রাজারহাটের ভিতরে খোলা জিপে করে ঘুরতাম। আমি গেলে লোকজন জিপের কাছে ছুটে আসত। তখন লোকে জানত না, ভারতীয় জনতা পার্টিটা কী। আসলে এই দল কিন্তু বাঙালির দল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তৈরি দল। যখন এদের পাশে কেউ ছিল না তখন আমি ছিলাম।’’
বিশ্বজিতের কথায় এই ফল প্রত্যাশিত ছিল। তাঁর মতে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের খামতি গুনতে শুরু করলে শেষ হবে না। বিশ্বজিতের কথায়, ‘‘এরা মানুষের চাকরি খেয়েছে, নারীদের উপর অত্যাচার করেছে, গুন্ডামি করেছে। অভয়া মেয়েটার কথা কি মানুষ ভুলে যাবে? তার ফল পেয়েছে। এখন তো বাংলার নাম শুনে লোকে হাসাহাসি করে। লোকে চোর বলে। শিক্ষা থেকে কয়লা – সব চুরি করেছে এরা। তবে যখন তৃণমূল ভাল ছিল, আমি ওদের পাশে ছিলাম। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখলাম ওরা রূপ বদল করল। আসলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী গণতন্ত্রে নয়, একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন।’’ তবে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় অন্য কোনও ধর্মের মানুষের কোনও অসুবিধে হবে না বলেই আশাবাদী বিশ্বজিৎ। বিশ্বজিতের আশঙ্কা, সীমান্ত পেরিয়ে বহু অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গিয়েছে। এটাকে প্রশয় দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্বজিৎ জানান, এ বার থেকে বাংলার মানুষ নির্ভয়ে বাঁচতে পারবেন।
বিবেক অগ্নিহোত্রী নিজের সমাজমাধ্যমে মমতার ছবি দিয়ে লেখেন ‘‘আর কখনও নয়।’’ তিনিও জানান, এ বার নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে বাংলার মানুষ চলাফেরা করবেন। পাশপাশি বিবেক জানান, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস্’ ছবি মুক্তির পর নাকি মমতা তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করেন। বিবেকের কথায়, ‘‘উনি বলেছেন আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। গত বছর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস্’ ছবিটিও ওরা নিষিদ্ধ করেছে। আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে, একাধিক এফআইআর করা হয়েছে। এমন অবস্থা করে দেয় যে আমি রাজ্যপালের কাছে পুরস্কারটা পর্যন্ত নিতে যেতে পারিনি।’’
বিবেক জানান, প্রাক্তন রাজ্য সরকারের জুলুমের পরেও তিনি হাল ছাড়েননি। তিনি নির্বাচনের আগে নাকি গোপনে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস্’ ছবি এখানকার মানুষদের দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। বিবেকের কথায়, ‘‘আমি আমার মতো করে ল়ড়াই করেছি। অবশেষে এই অভূতপূর্ব জয়। বাংলার মানুষকে অভিনন্দন। এ বার আপনারা নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে চলাফেরা করতে পারবেন।’’
আরও পড়ুন:
যদিও রিচা চড্ঢার মতো অভিনেত্রীরা বিজেপির এই জয় মেনে নিতে পারেননি। তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ‘কারচুপি’র তত্ত্ব নিয়ে এলেন। বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে মোদী সরকারকে বিঁধেছেন রিচা। এবার বাংলার বিধানসভা ভোটের নির্বাচনের ফল দেখেই যেন গর্জে উঠলেন। সমাজমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বাংলার নির্বাচন নিয়ে পোস্ট করে গিয়েছেন রিচা। কখনও সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘মহানগর’-এর দৃশ্য ভাগ করে নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, ‘রোজকার ভাত জোগাড় করতে গিয়েই আমরা কাপুরুষ হয়ে গেলাম’, আবার কখনও বা পরোক্ষভাবে বিজেপিকে বিঁধে রিচা লিখেছেন, ‘কাপুরুষরা কখনও সৎভাবে লড়তে জানে না।’
একই স্বর অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করের কণ্ঠে। তাঁর বিস্ময়, ‘‘বাংলার মানুষ শেষে এটা বেছে নিলেন!’’ তবে বাংলায় বিজেপির এই জয়ে উচ্ছ্বসিত অর্পণা সেনের প্রাক্তন জামাই রণবীর শোরে। তিনি মুম্বইয়ে বসেই জানান, বাংলায় এ বার আর ‘ড্রামা’ নয়, শুধুই ধর্ম হবে।