নির্বাচনের দিন বা সোমবার গণনা চলাকালীনও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সর্বত্র ছিল শাসক ও বিরোধী দলের পতাকার সহাবস্থান। পথের দু’ধার ঘাসফুল ও পদ্মফুলের পতাকায় মোড়া ছিল সোমবার বিকেল পর্যন্ত। কিন্তু বিজেপির জয়ের পরেই বদলে গেল ছবিটা। রাত বাড়তেই তৃণমূলের পতাকা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেল বি টি রোড, ঘোষপাড়া রোড, এস এন ব্যানার্জি রোডের দু’ধারে। বোমা, গুলি খুন-জখমহীন শিল্পাঞ্চলে বাধাহীন ভাবে দখল হল তৃণমূলের কার্যালয়।
মঙ্গলবার ফাঁকা রাস্তায় বেরোতে দেখা গিয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি অটো-টোটোকে। দোকানে, পথের রেলিংয়ে বাঁধা বিজেপির পতাকা খুলে নিয়ে তা অটো, টোটো ও অন্য যানবাহনে বাঁধতে দেখা গেল চালকদের। পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত, পুরসভাগুলিও বিজেপির দখলে যেতে চলেছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারাই। পরাজিত, সদ্য প্রাক্তন বিধায়কেরা হামলার আশঙ্কায় এলাকায় নেই। ব্যারাকপুরের সাংসদ তৃণমূলের পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘‘এ বার পুরসভা, পঞ্চায়েতগুলির দখল নেবে ওরা। কাউকে টিকতে দেবে না।’’
দুপুরেই ব্যারাকপুর পুরসভায় সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর উপস্থিতিতে পুর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়। তাতে বোর্ড ভাঙা ও পুরপ্রতিনিধিদের পদত্যাগের প্রসঙ্গও উঠেছে বলে কৌস্তভ জানান। পুরপ্রধান উত্তম দাস এই বৈঠককে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বললেও বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘‘বর্তমান পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং পুর প্রতিনিধিদের ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছার কথা আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য নেতৃত্বই নেবে।’’ শিল্পাঞ্চলের বাকি পুরসভাগুলিতেও এক এক করে গৈরিকীকরণ হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে নির্বাচনের আগে ভাটপাড়া, জগদ্দল-সহ সর্বত্র যে হারে বোমা-গুলির রমরমা দেখা গিয়েছিল, ফল প্রকাশের পরে সেখানেই যেন ‘শ্মশানের শান্তি’। অন্য জায়গার মতো হামলা ও মারধরের অভিযোগ নেই। বিজেপির ছোট ছোট শিবির হয়েছে পথের ধারে। পথচারীদের জল খাওয়ানো হয়েছে। আর গান বেজেছে ‘পাল্টানো দরকার’। বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহ বলেন, ‘‘সুস্থ পরিবেশে পরিষেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। বাঙালি যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির পরিবেশকে নিজের বলে মানে, সেটাই থাকবে। সেই কারণেই সার্বিক পরিকাঠামোয় পরিবর্তন প্রয়োজন। ধাপে ধাপে সবটাই হবে। শিল্পাঞ্চল ছন্দে ফিরবে, এটা অঙ্গীকার।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)