E-Paper

হরমুজ় ঘিরে ঘনাচ্ছে মেঘ, চিন সফরে আরাঘচি

কিছু দিন আগে রাশিয়া সফরও সেরেছিলেন আরাঘচি। তার ঠিক পরেই এই বেজিং সফর। ভূ-রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, ইরান যুদ্ধের সময়-কাল ক্রমেই বাড়তে থাকায় ‘পুরনো বন্ধু’ দেশগুলির সঙ্গে সমঝোতা-পর্ব আরও এক বার ঝালিয়ে নিতে চাইছে তেহরান।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৯:৪১
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

খাতায়-কলমে সংঘর্ষবিরতি চললেও, হরমুজ় প্রণালীর উপর আধিপত্যের প্রশ্নে ফের উত্তেজনা বাড়ছে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে। ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরে, যুযুধান কোনও পক্ষই আর আলোচনার টেবিলে বসেনি। আর ঠিক এমনই সময়কে চিন সফরের জন্য বেছেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আজ দুপুরে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে এই কথা জানানো হয়েছে।

কিছু দিন আগে রাশিয়া সফরও সেরেছিলেন আরাঘচি। তার ঠিক পরেই এই বেজিং সফর। ভূ-রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, ইরান যুদ্ধের সময়-কাল ক্রমেই বাড়তে থাকায় ‘পুরনো বন্ধু’ দেশগুলির সঙ্গে সমঝোতা-পর্ব আরও এক বার ঝালিয়ে নিতে চাইছে তেহরান। অন্য দিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অপারেশন ফ্রিডম’-কে কেন্দ্র করে ফের হরমুজ় চত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও, বিষয়টিকে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে না আমেরিকা। আজ এমনটাই জানিয়েছেন সে দেশের প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ। তাঁর দাবি, সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অবরুদ্ধ পারস্য এবং ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল তথা হরমুজ় প্রণালী। ইরানের মিত্র দেশ ছাড়া বাকি বিশ্বের জ্বালানি বহনকারী শতাধিক জাহাজ এই মুহূর্তে আটকে রয়েছে হরমুজ়ে। আমেরিকার একটি সংবাদ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই মুহূর্তে হরমুজ় পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আটশোরও বেশি জাহাজ। হরমুজ় বন্ধ থাকায় ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে চাপে রাখতে পাল্টা জলপথ অবরোধও শুরু করেছিল আমেরিকা। কিন্তু তাতেও খুব একটা সুবিধা না হওয়ায়, এ বার সরাসরি হরমুজ়ে আধিপত্য বিস্তারে মন দিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু এর পাল্টা চালে গত কালই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ্‌ বন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইরান। হামলা চালানো হয়েছিল বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজেও। সেই তালিকায় ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজও। আর এই ঘটনার পরেই ট্রাম্পের ‘অপারেশন ফ্রিডম’-এ শরিক হতে আপত্তি প্রকাশ করেছে সোল। যদিও পুরো ঘটনার পাল্টা হিসেবে আজ ইরানি নৌসেনার অন্তত ছ’টি জলযান নষ্ট করেছে আমেরিকান নৌবাহিনী।

গত কাল ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, নির্বিঘ্নে হরমুজ় পার হয়েছে দু’টি আমেরিকান জাহাজ। আজ সেই তত্ত্ব খারিজ করেছে ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ড’ তথা ‘আইআরজিসি’। যদিও এ নিয়ে ইরানকে আরও এক দফা হুমকিও দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তাঁর বার্তা, হরমুজ় পার হওয়ার সময়ে আমেরিকান জাহাজের উপর হামলা চালানো হলে ‘‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ইরানকে মুছে দেওয়া হবে...।’’

এ দিকে, আজই বাহরিনে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। বাহরিনের রাজা শেখ হামাদ বিন ইশা আল খালিফার সঙ্গে সাক্ষাতের পরে সেই ভিডিয়ো নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে জ়েলেনস্কি লিখেছেন, ‘...ইউক্রেনের মতো বাহরিনও নিত্যদিন ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। এখানকার মানুষের স্বার্থে আমরা বাহরিনের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত’। এই পোস্ট সামনে আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই তেহরানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তাঁর কথায়, ‘‘পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির আমেরিকা তথা আরব দুনিয়ার বাইরের কোনও দেশ থেকে সাহায্য নেওয়ার ব্যাপারে সংযত হওয়া প্রয়োজন।’’ এর মধ্যেই হিজ়বুল্লা গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে দক্ষিণ লেবাননে আজ ফের বিমান হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। সেই সঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া দক্ষিণ লেবাননের দু’টি শহর খালি করে দেওয়ার বিষয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Donald Trump US-Iran Conflict

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy