চেনা জমি অচেনা, অভিযোগের পাহাড়ের প্রতিফলন ভোটবাক্সে?

সোনারপুর দক্ষিণে আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। সেখানে প্রায় ৩৬ হাজার ভোটে জয়ী বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অরুন্ধতী মৈত্রকে ঘিরে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নির্বাচনের আগেই দলের অন্দরে চর্চায় ছিল।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৯:২২

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

তৃণমূলের কলকাতা লাগোয়া অন্যতম শক্ত ঘাঁটি সোনারপুর। সেখানকার উত্তর ও দক্ষিণ, দুই বিধানসভা কেন্দ্রই ২০২৬-এর নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে হাতছাড়া। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
দীর্ঘদিন প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের আগে এখান থেকে প্রচার শুরু করেছেন। দলীয় ভাষায় ‘পুণ্যভূমি’ বলে পরিচিত এই অঞ্চলেই এ বার বড় ধসের ছবি সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুর্নীতি, তোলাবাজি ও মস্তান-রাজের দাপাদাপিতে ক্ষুব্ধ ভোটারদের বড় অংশ শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। সোনারপুর উত্তর আসনে ১৮টি ওয়ার্ডেই পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ৩২ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিল দল, সেখানে এ বার ৯৭১৭ ভোটে জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ধর। সংশ্লিষ্ট একাধিক পঞ্চায়েত এলাকাতেও বিজেপি এগিয়ে রয়েছে।

দেবাশিসের দাবি, “দুর্নীতি, দখলদারি, গুন্ডা-রাজ এবং কাটমানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষই এই রায় দিয়েছেন। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। আমি ভবিষ্যতে আমাদের সরকার এবং দলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সঙ্কল্প অনুযায়ী, এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। তবে, ভোট-পরবর্তী সময়ে কিছু জায়গায় দল বদলের নামে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।”

সোনারপুর দক্ষিণে আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। সেখানে প্রায় ৩৬ হাজার ভোটে জয়ী বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অরুন্ধতী মৈত্রকে ঘিরে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নির্বাচনের আগেই দলের অন্দরে চর্চায় ছিল। শেষ মুহূর্তে তাঁকে টিকিট দেওয়া হলেও ফলাফলে তার প্রভাব পড়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দক্ষিণের অন্তর্গত রাজপুর–সোনারপুর পুরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ড ও পঞ্চায়েত এলাকাতেও শাসকদল পরাজিত হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে শাসকদলের জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ১০ হাজার।

রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এ বার মানুষ বিনা বাধায় ভোট দিতে পেরেছেন। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও গুন্ডারাজ থেকে মুক্তি পেতেই তাঁরা বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী করেছেন।” গণনা-পর্ব ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গণনা শেষ হওয়ার আগেই এক বিদায়ী বিধায়কের কেন্দ্র ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যদিও এ নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে।

এ বারের নির্বাচনে রাজ্য জুড়েই একাধিক চমক দেখা গিয়েছে। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। তবে, ব্যতিক্রম হিসেবে বারুইপুর পশ্চিমে নিজের ঘাঁটি ধরে রেখেছেন বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিধানসভা কেন্দ্রে ৫০ হাজারের কাছাকাছি ব্যবধান ছিল। সেই ব্যবধান আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে ১৭৮৬২ ভোটে নেমে এসেছে।

বিমানের কথায়, “সারা বছর এলাকায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করেছি বলেই আস্থা পেয়েছি। এখন বিরোধী দলের সদস্য হিসেবেও এলাকার উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাব।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP West Bengal Politics West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy