E-Paper

হিংসা ও রং বদলের মেজাজ কলকাতা, যাদবপুরেও

এ দিন দুপুরে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের সভা বসে। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ঘরের বাইরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মালা দিতে উপাচার্য আশুতোষ ঘোষকে অনুরোধ করা হয়। তিনি মালাও দেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৯:১৭
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। —ফাইল চিত্র।

এক দিকে রং বদল, অন্য দিকে তথাকথিত প্রতিপক্ষ বা বিরোধীদের প্রহার— চুম্বকে এটাই রাজ্যের পালাবদল-পরবর্তী শিক্ষা প্রাঙ্গণের চেহারা। মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের তরফে রাজ্যে ‘রাষ্ট্রবাদী’ দলের জয়ের উদ্‌যাপন সভা বসে। সেখানে সারা বাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতির নেতা-কর্মী থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কেউ কেউ উপস্থিত ছিলেন বলে খবর। সন্ধ্যায় কলেজ স্ট্রিটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরেই ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও-র কয়েক জনকে বেধড়ক মারা হয় বলে অভিযোগ। তাঁরা মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

এ দিন দুপুরে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের সভা বসে। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ঘরের বাইরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মালা দিতে উপাচার্য আশুতোষ ঘোষকে অনুরোধ করা হয়। তিনি মালাও দেন। তার পরে সভায় দেখা যায় তৃণমূলের কর্মচারী সংগঠনের অনেককেই। পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের রাজ্য সভাপতি মন্মথরঞ্জন বিশ্বাস অবশ্য অন্য কোনও সংগঠন থেকে তাঁদের সংগঠনে যোগ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের অনুষ্ঠানে সবাইকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আবির খেলা, মিষ্টিমুখ হয়েছে। কে এসেছেন, কে আসেননি, বলতে পারব না।’’ তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতির নেত্রী মাধবী চৌধুরী অবশ্য বলেছেন, ‘‘আমায় ওঁরা আসতে বলেছিলেন, এসেছি। একটু আবির খেলা হয়েছে। আমি এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই আছি। তবে পরে কী হবে, বলতে পারি না।’’ মাধবীর অভিযোগ, তৃণমূলের নেতারা কোনও এক প্রয়াত সহকর্মীর স্ত্রীকে চাকরির টোপ দিয়ে ধর্ষণে অভিযুক্ত এক কর্মচারী নেতাকে আড়াল করেছেন। এর প্রতিবাদেই প্রয়োজনে অন্য সংগঠন করতে হবে।

একই ভাবে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের একাংশও লাড্ডু বিলি করেছেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়েও তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতির প্রভাবশালী এক নেতা বিজেপিতে ঢুকছেন বলে আভাস মিলেছে। দরকারে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে আশ্বাসও দেন বলে খবর। প্রভাবশালী ওই নেতা আগে ২০২১-এও বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিলেন। তিনি এখন রাতারাতি বিজেপি হয়েছেন বলে খবর। যাদবপুরের প্রাক্তন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ বলেন, ‘‘এত দিন চাপের মুখে পিছু হটলেও পালাবদলের পরে সরাসরি বিজেপি করতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, ছাত্রেরা অনেকেই সাহস পাবেন।’’ যাদবপুরের শিক্ষাকর্মী, শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে বিজেপি সংস্রবের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের বাইরে ‘দুর্বৃত্ত-বাহিনী’র দৌরাত্ম্য নিয়েও মুখ খুলেছেন এআইডিএসও-র রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়। তিনি বলেন, ‘‘যা হয়েছে, তা এবিভিপির দখলদারি রাজনীতি।’’ ক্যাম্পাসে এআইডিএসও-র পোস্টার ছিঁড়ে বাইরে কয়েক জনকে মারধরও করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengal post-poll Violence West Bengal Politics Universities

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy