Advertisement

নবান্ন অভিযান

বিজেপির মাইকের ‘উৎপাতে’ সভা ছাড়েন শনিবার! রবিতে সেই চক্রবেড়িয়াতেই মমতার ৮৭ মিনিটের ভিড়ে ঠাসা পদযাত্রা

ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় মাইক-সংঘাতের কারণে শনিবার মমতা বলেছিলেন, ‘‘আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি কাল এখানে র‌্যালি করে দেব।’’ সেই মতোই ভবানীপুরের সেই চক্রবেড়িয়া এলাকায় পদযাত্রা দিয়ে রবিবাসরীয় প্রচার শুরু করেন মমতা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩৫
Chief Minister Mamata Banerjee held a rally in Bhawanipur on Sunday

ভবানীপুরে পদযাত্রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।

কথা দিয়েছিলেন শনিবারই। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় মাইক-সংঘাতের কারণে মঞ্চ ছাড়ার সময় তৃণমূলের সর্বময়নেত্রী বলে গিয়েছিলেন, ‘‘আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি কাল এখানে র‌্যালি করে দেব।’’ সেই মতোই ভবানীপুরের সেই চক্রবেড়িয়া এলাকায় পদযাত্রা দিয়ে রবিবাসরীয় প্রচার শুরু করেন মমতা। সেই পদযাত্রা ঘিরে ভবানীপুরের মানুষের মধ্যে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতোই।

তখন বিকেল ৪টে ১৫। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। কালীঘাট রোড, হরিশ মুখার্জি রোড-সহ ভবানীপুর এলাকা জুড়ে হাঁটেন তিনি। কখনও অলিগলি দিয়ে এগিয়েছে মিছিল, কখনও আবার মিছিল চলে আসে বড় রাস্তায়। তিনি যখন হাজরা ফায়ার ব্রিগেডের সামনে নিজের পদযাত্রা শেষ করেন তখন বিকেল ৫টা ৪২ মিনিট। রবিবার মোট ৮৭ মিনিটের পদযাত্রা সারলেন মমতা।

মমতার পদযাত্রা মানে শুধু হনহনিয়ে হাঁটা নয়। পদযাত্রার মাঝে জনসংযোগও সারেন তিনি। কখনও হাঁটার গতি কমিয়েছেন, আবার কখনও হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। পাশে এগিয়ে গিয়ে কথা বলেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তবে গোটা পদযাত্রা জুড়েই দু’পাশে জড়ো হওয়া জনতার উদ্দেশে হাত নেড়েছেন তিনি। আর তাঁকে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত অনেকেই। কেউ কেউ আবার ‘প্রোটোকল’ ভেঙে একেবারে মমতার কাছে পৌঁছে গিয়েছেন, এমন ছবিও দেখা গেল রবিবার। এক মহিলা ভিড় ঠেলে মমতার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে এগিয়ে যান। তাঁকে মমতাই নিষেধ করেন। তবে ওই মহিলা চলে যান মমতার কাছে। পা ছুঁয়ে প্রণাম সেরে নেন।

পদযাত্রার মাঝেই এক মহিলা ভিড় ঠেলে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন।

পদযাত্রার মাঝেই এক মহিলা ভিড় ঠেলে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। ছবি: সারমিন বেগম।

মমতার পদযাত্রায় যেমন ছিল নানা রং, তেমনই ছিল নানা বয়সের জমায়েত। রাস্তার পাশে থাকা জনতার ভিড়ে ছোট্ট এক ছেলেকে দেখা যায় মায়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে। তার হাতে গোলাপ। লেখা ‘জয় বাংলা’। শুধু ওই ছেলেটি নয়, এমনই আরও কয়েকটি খুদেকে মমতার এই পদযাত্রায় দর্শক হিসাবে দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও উৎসাহ নিয়ে ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়েকে’ দেখার জন্য রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ কেউ আবার হুইলচেয়ারে চেপেও এসেছেন মমতাকে দেখবেন বলে। পদযাত্রায় যেমন গান বাজছে, তেমনই ঢাকে কাঠিও পড়ছিল। রাস্তার পাশের বাড়িগুলির জানলা বা ছাদগুলি থেকেও মমতাকে দেখার উৎসাহ চোখে পড়ছিল। আর এই গোটা পদযাত্রায় তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গী ছিলেন ফিরহাদ হাকিম।

শনিবার এই চক্রবেড়িয়াতে সভা ছিল মমতার। সেই সভায় ‘বিপত্তি’ দেখা দেয়। তাঁর সভাস্থলের কিছুটা দূরে বিজেপি মাইক প্রচার শুরু করে বলে অভিযোগ। তার জেরে ওই সভায় কয়েক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়েই তা শেষ করে দেন মমতা। তবে ওই বক্তৃতা জুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অসভ্যতামির’ অভিযোগ তোলেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, “মিটিং আমার পক্ষে করা সম্ভব? আমার পারমিশন ছিল। এ বার আপনারা দেখুন। কী অ্যাটিটিউড। ওরা পশ্চিমবঙ্গকে দখল করতে জোর করে যা করছে, তা ঠিক নয়।’’ মমতা আরও বলেন, ‘‘পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছে। এই দেখুন, সামনে চিৎকার করছে, যাতে আমি মিটিংটা করতে না-পারি। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কাল এখানে র‌্যালি করে দেব। আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না। এটা খুব অপমানজনক।’’ তার পরেই মঞ্চ ছেড়েছিলেন মমতা। কথা দিয়েছিলেন রবিবার এই চক্রবেড়িয়ায় পদযাত্রা করবেন। সেই মতো পদযাত্রা সারলেন মমতা।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Mamata Banerjee Rally TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy