Advertisement
E-Paper

২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় থাকা ভোটারদেরও ‘বিবেচনাধীন’ দেখাচ্ছে কমিশনের ওয়েবসাইট! ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’, জানালেন কর্তৃপক্ষ

যে কোনও ভোটার এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই, কমিশনের সাইটে ভোটার তালিকায় তাঁকে বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের অফিসে ইতিমধ্যে বহু ভোটার অভিযোগ জানিয়ে ফোন করেছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ২২:৩৭

— প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যের প্রায় সব ভোটার এখন ‘বিবেচনাধীন’- তালিকায়— এমনটাই বলছে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট। চূড়ান্ত তালিকায় যে ভোটারদের নাম ছিল, এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলে তাঁদেরও ‘বিবেচনাধীন’ দেখাচ্ছে কমিশনের ওয়েবসাইটে। রাজ্যে প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে ২৪ ঘণ্টা কাটতে চললেও এখনও স্পষ্ট নয়, কত জন ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের নাম উঠেছে। তার মধ্যেই নতুন বিপত্তি। এ প্রসঙ্গে কমিশনের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে, কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এ রকম হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে অভিযোগ ওঠে, যে কোনও ভোটার এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই কমিশনের ওয়েবসাইটে ভোটার তালিকায় তাঁকে ‘বিবেচনাধীন’ হিসাবে দেখানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের অফিসে ইতিমধ্যে বহু ভোটার ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন। এমনকি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যে ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে যাঁদের নাম ছিল, সেই ভোটারদেরও কমিশনের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার ‘বিবেচনাধীন’ দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ।

সোমবার রাত ১২টার কয়েক মিনিট আগে বিবেচনাধীন ভোটারদের অতিরিক্ত প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। তবে এখনও কত নামের নিষ্পত্তির তালিকা বার হয়েছে সেই সংখ্যা কমিশনের তরফে জানানো হয়নি। জানা যায়নি কত নাম বাদ পড়েছে সেই সংখ্যাও। কমিশন শুধুমাত্র তালিকা প্রকাশের বিষয়টিই জানিয়েছে। বুথ অনুযায়ী দু'টি ভাগে তালিকাটি প্রকাশ করেছে কমিশন। নাম বাদ পড়া ভোটারদের জন্য আলাদা তালিকা বার করা হয়েছে। এর আগের তালিকা প্রকাশের সময় সামগ্রিক হিসাব কমিশন প্রকাশ করেছিল। এ বার তা কখন দেওয়া হবে, সেই নিয়ে কমিশনের তরফে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। ওই তালিকা প্রকাশের পরেই প্রযুক্তিগত সমস্যা নিয়ে অভিযোগ উঠতে শুরু করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। বিবেচনাধীন ভোটার ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এই তালিকা ৭০৫ জন বিচারক নিষ্পত্তি করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা ধাপে ধাপে বার করার কথা জানিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা (সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট) বার হয়েছে। তবে প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় কত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সেখান থেকে কত জন ভোটার যোগ হয়েছেন তা জানায়নি কমিশন।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে প্রাথমিক ভাবে বলা হয়েছিল, নিষ্পত্তির থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। সোমবার তালিকা বার হওয়ার পরে সেই সংখ্যাও স্পষ্ট করেনি কমিশন। ওই দিন বিকেলে সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, ২৯ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে। কত নাম প্রকাশ হবে তা বিচারকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হওয়ার আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ নাম। সেই তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে বাদের হিসাব দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনে।

খসড়া তালিকায় যে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের নাম ছিল, তাঁদের মধ্যে শুনানির জন্য চিহ্নিত হন প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটার। এর মধ্যে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬। এই ভোটারেরা ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে লিঙ্ক দেখাতে পারেননি। বাকি ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র তালিকায় শুনানিতে ডেকে পাঠায় কমিশন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়। তাঁদের মধ্যে ৮২ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে ইআরও এবং এইআরও-দের সঙ্গে সহমত হয় কমিশন। তারা জানায়, শুনানিতে বাছাই করে মোট ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়। তার পরে প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়।

প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। তার মধ্যে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম বিবেচনাধীন পর্যায়ে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করছেন বিচারকেরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করেছেন। এই মুহূর্তে রাজ্যে ৭০০ জনের বেশি বিচারক ওই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। সোমবার দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা প্রকাশ করল কমিশন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে সেই ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy