E-Paper

খড়্গে-হাতে ইস্তাহার, বঙ্গে নজর রাহুলদেরও

দীর্ঘ কুড়ি বছর পরে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়ছে কংগ্রেস। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বিমেরু ভাষ্যকে সরিয়ে উন্নয়ন ও সুস্থতার রাজনীতিকে সামনে আনার ডাক দিয়ে ময়দানে নেমেছে তারা।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২১
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব । দিল্লিতে।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব । দিল্লিতে। — ফাইল চিত্র।

জাতীয় স্তরে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে তার অস্তিত্ব নেই। রাজ্যে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিরোধী দল হিসেবে লড়াইয়ে আছে সিপিএম ও কংগ্রেস। তবে বিজেপি-বিরোধিতায় বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে কৌশলগত কারণে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে তেমন সক্রিয় ভাবে দেখা যায়নি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতাদের। এ বার বিধানসভা ভোটে সেই কৌশলে বদল আসতে চলেছে। সব ঠিক মতো এগোলে বিজেপির নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, নিতিন নবীনদের বঙ্গ সফরের বিপরীতে কংগ্রেসের প্রচারে দেখা যেতে পারে রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা, মল্লিকার্জুন খড়্গেদের।

দীর্ঘ কুড়ি বছর পরে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়ছে কংগ্রেস। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বিমেরু ভাষ্যকে সরিয়ে উন্নয়ন ও সুস্থতার রাজনীতিকে সামনে আনার ডাক দিয়ে ময়দানে নেমেছে তারা। কঠিন সময়ে ভোটের যুদ্ধে প্রার্থী হয়ে নামছেন অধীর চৌধুরী, শুভঙ্কর সরকার, মৌসম বেনজির নূরেরা। কংগ্রেসের এই লড়াইয়ে উৎসাহ জোগাতে রাজ্যে আসার কথা কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতাদের। তার আগে দলের ইস্তাহার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করতে আসতে পারেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খড়্গে। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের অপশাসন ও দুর্নীতির অভিযোগ করে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি থাকছে সেই ইস্তাহারে। সেই প্রতিশ্রুতির কথা বলতে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তথা দলের বিরুদ্ধে খড়েগ কত দূর সুর চড়ান, সেই প্রশ্নে কৌতূহ থাকছে কংগ্রেস শিবিরে।

কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরের প্রায় সব নেতাই এখন কেরলের ভোট নিয়ে ব্যস্ত। দক্ষিণী ওই রাজ্যে টানা ১০ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে এ বার কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউডিএফ সরকারের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে চাইছেন তাঁরা। কেরলের সঙ্গে তামিলনাড়ু ও অসমে বিধানসভা ভোট মিটে যাবে আগামী ৯ এপ্রিল। আর এই রাজ্যে দু’দফায় ভোট রয়েছে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ফলে, কেরল-সহ তিন রাজ্যের প্রচার সেরে পশ্চিমবঙ্গে সময় দিতে কংগ্রেস হাই কম্যান্ডের বাধা নেই। সূত্রের খবর, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য স্ক্রিনিং কমিটি ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকের অবসরে দিল্লিতে এই বিষয়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে প্রদেশ নেতৃত্বের কথা হয়েছে। খড়্গের হাত দিয়ে ইস্তাহার প্রকাশের পরিকল্পনাও সেই যাত্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। প্রদেশ ক‌ংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্করের কথায়, ‘‘রাজনৈতিক বাস্তবতা বিচার করে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এ বার একক ভাবে ২৯৪ আসনে লড়াই করছে। বিজেপি ও তৃণমূলের মেরুকরণের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে মানুষ উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ চাইছেন। এই বিকল্প দেওয়ার জন্য কংগ্রেস লড়ছে, বিজেপি ও তৃণমূল ছেড়ে অনেকেই কংগ্রেসে অন্তর্ভুক্ত হতে চাইছেন। এই পরিস্থিতিতে আমাদের রাজ্যে প্রচারে রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধীরা আসবেন।’’

দু’বছর আগে লোকসভা ভোটের প্রচারে মালদহে এসেছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খড়েগ। রাহুল-প্রিয়ঙ্কারা এ রাজ্যকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পাঁচ বছর আগে কোভিডের আবহে বিধানসভা ভোটেও সে ভাবে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের আনাগোনা ছিল না। এ বার কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে অধীর বহরমপুরে, মৌসম মালদহের মালতীপুরে, নেপাল মাহাতো পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে প্রার্থী। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর মালদহ থেকে প্রার্থী হলে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নজর মালদহ-মুর্শিদাবাদেই থাকত। তবে প্রদেশ সভাপতির এখন প্রার্থী হওয়ার কথা হুগলির শ্রীরামপুরে। সে ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিকল্পনা করতে হবে দলের শীর্ষ নেতাদের জন্য। বিহারে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ সপ্তমে তুলেও সাফল্য পায়নি কংগ্রেস। এ রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রেক্ষিতে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলের প্রশ্নে রাহুলদের অবস্থান কী হবে, নজর থাকবে সব মহলেরই। বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদের কটাক্ষ, ‘‘কেরলে গিয়ে রাহুলেরা বামপন্থীদের বিজেপির ‘বি টিম’ বলছেন। এর পরে পশ্চিমবঙ্গ বাকি। বোঝাই যাচ্ছে, ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের কী হাল!’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Congress BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy