পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা সম্পূর্ণ করল কংগ্রেস। প্রথম দফায় ২৮৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর বুধবার রাতে বাকি ১০টি আসনের প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি)।
দ্বিতীয় তথা শেষ তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁকে হুগলি জেলার শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। এই কেন্দ্রেই ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। সে বার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুদীপ্ত রায়ের কাছে পরাজিত হন শুভঙ্কর। এক দশক পর আবারও সেই আসনেই তাঁকে প্রার্থী করে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে কংগ্রেস। এআইসিসি-র প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ারে মৃন্ময় সরকার, ইসলামপুরে গুড্ডি রিয়াজ, ফরাক্কায় মেহতাব শেখ, সাগরদিঘিতে মনোজ চক্রবর্তী, বেলডাঙায় শাহারুদ্দিন শেখ, বাদুড়িয়ায় কাজী আব্দুল রহিম, অশোকনগরে অংশুমান রায়, শ্রীরামপুরে সভাপতি শুভঙ্কর এবং পটাশপুরে প্রণব কুমার মহাপাত্র। এই ১০টি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে ।
গাজোল কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আগে এই কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন সঞ্জয় সরকার। তাঁকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে প্রেম চৌধুরীকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শ্রীরামপুরে শুভঙ্করকে ফের প্রার্থী করা কংগ্রেসের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এই কেন্দ্রে তাঁর সাংগঠনিক ভিত্তি এবং পরিচিতি রয়েছে, যা দলকে লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। পাশাপাশি শেষ তালিকায় বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। অন্য দিকে, ২৮৪ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পর বুধবার দিনভর কলকাতার বিধান ভবনে বিভিন্ন জেলা কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। দু’জন কর্মীর মাথা ফেটে যায়। বিধান ভবনে আসে পুলিশ। ডাকতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও।
মঙ্গলবার দিল্লি গিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক কাজী আব্দুল রহিম (দিলু)। তাঁকে ফের ওই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে ওই আসন থেকে বিধায়ক হন দিলু। কিন্তু ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলে যোগদান করে ফের ওই আসন থেকেই বিধায়ক হন। কিন্তু ওই আসনে এ বার তাঁকে তৃণমূল টিকিট না দেওয়ায় তিনি কংগ্রেসে যোগ দিলেন। পাশাপাশি, বহরমপুর থেকে এ বার অধীর চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ওই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজকে সাগরদিঘিতে লড়াই করতে পাঠানো হয়েছে।