অবশেষে বিধানসভার সচিবালয়ে বিধায়কদের স্বাক্ষর করা চিঠি দিয়ে বিরোধী দলনেতার নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে জানাতে চলেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই বিধানসভার সচিবালয়কে নতুন করে চিঠি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর। আরও জানা গিয়েছে, ৬ মে কালীঘাটে বিধায়কদের নিয়ে যে বৈঠক বসেছিল, সেই বৈঠকেই বিধায়কদের স্বাক্ষর করে সর্বসম্মতিক্রমে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের নেতা বেছে নেওয়া হয়। বুধবার সেই চিঠিটিই জমা পড়তে চলেছে বিধানসভার সচিবালয়ে। ফলে তৃণমূল পরিষদীয় দলের সঙ্গে বিধানসভার সচিবালয়ের চিঠি জটিলতা কাটতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সোমবার তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, দলের তরফে চিঠি দিয়ে বিধানসভার সচিবালয়কে বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেবকে পরিষদীয় দলনেতা মনোনীত করার কথা জানানো হলেও, এখনও তাঁকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেয়নি বিধানসভার সচিবালয়। শোভনদেবের অভিযোগ ছিল, গত ১৩ মে সর্বভারতীয় তৃণমূলের তরফে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। যেখানে ৮০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তৃণমূল পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে শোভনদেবের নাম জানানো হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন এখনও কেন তাঁকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হয়নি। তৃণমূল সূত্রে খবর, স্পিকার অফিসে না-থাকায়, সেই চিঠিটি দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাসকে। চিঠি জমা দেওয়ার প্রায় পাঁচ দিন পরেও বিরোধী দলনেতা হিসেবে তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন:
পাল্টা বিধানসভার সচিবালয়ের তরফে জানানো হয়েছিল, তৃণমূলের তরফে যে চিঠিটি দেওয়া হয়েছে, তাতে স্বাক্ষর করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্বাক্ষরের বিধানসভার সচিবালয়ের কাছে কোনও মূল্য নেই। কারণ, তিনি তৃণমূলের বিধায়ক নন। তাই তিনি তৃণমূল পরিষদীয় দলেরও কেউ নন। আর যে চিঠিটি দিতে হবে, তাতে কেবলমাত্র তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত বিধায়কদের স্বাক্ষর করতে হবে। এ বার সেই দাবি মেনে বুধবার তৃণমূল পরিষদীয় দল বিধায়কদের স্বাক্ষর করা চিঠি জমা দিতে পারে বিধানসভার সচিবালয়ে।
ঘটনাচক্রে, ৮০ জন বিধায়ক নিয়ে বিরোধী দলের মর্যাদা পেলেও, চিঠি জটিলতার কারণে এখনও বিধানসভা থেকে কোনও সুযোগ সুবিধা পায়নি তৃণমূল পরিষদীয় দল। মনে করা হচ্ছে, বিধানসভার সচিবালয় চিঠি পেলেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার জন্য বরাদ্দ ঘরের তালা খুলে দেওয়া হবে।