মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনে গ্রেফতার আরও এক জন। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম বিনয় রায়। তাঁকে বারাণসী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বারাণসী সিজেএম আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হচ্ছে বিনয়কে। বুধবার বারাসত আদালতে হাজির করানো হবে তাঁকে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বিনয়ের বয়স ৪০ বছর। তিনি আদতে গাজিপুরের মনসা গাঁওয়ের বাসিন্দা। পরবর্তী কালে দেওরিয়া গ্রামে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ধানবাদে থাকতেন বিনয়। সূত্রের খবর, ধানবাদে কয়লার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সিবিআই তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, বিনয় কয়লা পাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গোটা পরিকল্পনার নেপথ্যে বিনয়ের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। বালিয়া ও বিহারের অপরাধীদের রসদ জোগান দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। তদন্তকারীদের একাংশ মনে করেন, তিনি অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী।
বিনয়কে ধরতে গাজীপুরে সিবিআই আধিকারিকেরা তল্লাশি চালান। গাজীপুরে তাঁকে পাওয়া যায়নি। সিবিআই আধিকারিকেরা বিশেষ সূত্রে জানতে পারেন যে, তিনি বারাণসীতে পুলিশ লাইনের কাছে কোথাও একটা লুকিয়ে রয়েছেন। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এর আগে চন্দ্রনাথের খুনে গ্রেফতার হয়েছিলেন চার জন। তাঁরা সকলেই ভিন্রাজ্যের বাসিন্দা। রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) বিহারের বক্সার থেকে পাকড়াও করে বিশাল শ্রীবাস্তবকে। ভিন্রাজ্যের রাজ সিংহ এবং ময়ঙ্ক মিশ্র পুলিশের জালে ধরা পড়েন। তার পর এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। উত্তরপ্রদেশের ছাপ্পর থেকে আটক রাজকুমার সিংহকে গ্রেফতার করে সিবিআই।
রাজ্য সিআইডি-র হাতে পাকড়াও বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের তিন ভাড়াটে খুনিকে জেরা করেই রাজকুমারের হদিস মেলে। বালিয়া থেকে সিআইডি-র হাতে ধৃত রাজ সিংহের সঙ্গে রাজকুমারের যোগসাজসের সূত্র মেলে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রাজকুমারকে ধরতে ফরিদাবাদ এবং দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল।