মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। মঙ্গলবার সেই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল। তাতে জানানো হয়েছে, ৬৬টি সম্প্রদায় সাত শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন। রাজ্যপালের নির্দেশে সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তৃণমূল সরকারের আমলে যত ওবিসি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিল শুভেন্দুর সরকার। সোমবারের বৈঠকে সেই তালিকা পুনরায় যাচাই এবং উপ-শ্রেণিবিভাগের তালিকা বাতিল করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। মঙ্গলবার জারি হল বিজ্ঞপ্তি।
বাম জমানার শেষ পর্বে এবং তৃণমূল সরকারের প্রথম পর্বে ২০১০-এর মার্চ থেকে ২০১২-র মে মাসের মধ্যে রাজ্যে ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি-র তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। বাম জমানায় ৪২টি মুসলিম সম্প্রদায় ওবিসি তালিকাভুক্ত হয়েছিল। এদের ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রথম মামলা হয়। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে আরও ৩৫টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করে। ২০২৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ওবিসি সংরক্ষণ আইন জারি করে এই ৭৭টি সম্প্রদায়কে তার আওতায় নিয়ে আসে। এর ফলে মোট ওবিসি সম্প্রদায়ের সংখ্যা ১৭৯-তে পৌঁছয়।
২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ৬৬টি সম্প্রদায়কে রেখে ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। যুক্তি ছিল, ধর্মের ভিত্তিতে এই সব সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ২০১০ থেকে বিলি হওয়া প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায়। রাজ্য হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায়।
আরও পড়ুন:
২০২৫-এর মার্চে তৃণমূল সরকার নিজেই জানায়, রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে একটি ওবিসি তালিকা তৈরি করবে। জুন মাসে মমতা সরকার নতুন ৭৬টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় যোগ করে মোট ১৪০টি শ্রেণির ওবিসি তালিকা প্রকাশ করে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, রাজ্য সরকার পুরনো সমস্ত সম্প্রদায়কে ফের ওবিসি তালিকায় ঢুকিয়েছে। কলকাতা হাই কোর্ট গত ১৭ জুন তাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ফের সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার।
গত জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্টে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গবইয়ের বেঞ্চ হাই কোর্টের সেই স্থগিতাদেশের উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। মামলাটি এখন বর্তমান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে রয়েছে।