নদিয়ার কালীগঞ্জে নিহত শিশু তমন্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিনকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করার পর সিপিএমের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছিলেন কয়েক জন। সেই ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করল দল। বহিষ্কার করা হল সাত জনকে। নদিয়া জেলা সিপিএমের সম্পাদক মেঘলাল শেখ শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে তাঁদের বহিষ্কারের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সাত জনের নামও প্রকাশ করা হয়েছে।
দলের তরফে জানানো হয়েছে, সইদুল শেখ, সেন্টু শেখ, জহিরউদ্দিন আহমেদ, অজয় সরকার, মোদস্সের মীর, এম রহমান এবং হানিফ মহম্মদকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। তাঁরা সকলেই সিপিএমের সদস্য ছিলেন। প্রথম দফার প্রার্থী ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন তাঁরা। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক আসবাবপত্র। ওই ঘটনায় দলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। তিন দিনের মাথায় কঠোর পদক্ষেপ করল সিপিএম। এর মাধ্যমে ‘বিদ্রোহী’দের বার্তাও দেওয়া হল বলে কেউ কেউ মনে করছেন।
আরও পড়ুন:
গত মঙ্গলবার প্রথম দফায় ১৯২টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। কালীগঞ্জের প্রার্থী হিসাবে তমন্নার মায়ের নাম ঘোষণা ছিল সেই তালিকার অন্যতম চমক। কিন্তু স্থানীয় পরিসরে কোথাও কোথাও দলের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। অনেকেই এই প্রার্থীকে মেনে নিতে পারেননি। সে দিন বিকেলে কালীগঞ্জের সিপিএম কার্যালয় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। কর্মী-সমর্থকেরা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন।
গত বছর কালীগঞ্জে বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলঘোষণার দিন বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল ন’বছরের তমন্নার। তার পরিবার সিপিএম সমর্থক হিসাবে পরিচিত ছিল। অভিযোগ, উপনির্বাচনের ফল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরেই এলাকায় বিজয়মিছিল বার করেছিল তৃণমূল। সেই মিছিল থেকে তমন্নাদের বাড়়ির দিকে বোমা ছোড়়া হয়। সরকারের আর্থিক সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তমন্নার মা। তাঁকে বিধানসভায় প্রার্থী করায় বিতর্ক রয়েছে। তৃণমূল-সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের অভিযোগ, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চায় সিপিএম। সেই কারণেই সাবিনাকে প্রার্থী করা হল। তাঁকে ঘিরে দলের অন্দরে অসন্তোষ প্রসঙ্গে সাবিনা নিজে বলেছিলেন, ‘‘মানুষ চেয়েছে বলে আমি প্রার্থী হয়েছি। দলের কর্মীরাও আমাকে দু’হাত তুলে স্বাগত জানিয়েছেন। এখানে কোনও ক্ষোভ-বিক্ষোভ নেই। বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় কিছু অশান্তি হলেও হতে পারে।’’ বৃহস্পতিবার আরও ৩২টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে সিপিএম।