‘বিবেচনাধীন’ তালিকা থেকে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষের নাম কী ভাবে বাদের তালিকায় চলে গেল, তার ব্যাখ্যা দাবি করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও) চিঠি দিল সিপিএম। চিঠিতে তাদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু, মতুয়া, অন্যান্য দলিত-সহ গরিব ও প্রান্তিক অংশের মানুষের নাম বিপুল সংখ্যায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘বিচারাধীন’ থাকার সময়ে তাঁরা কোনও নোটিস পাননি, তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগও এই প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়নি। যাঁরা আগেকার নানা নির্বাচনে ভোট দিলেন, তাঁদের কোনও সুযোগ না-দিয়েই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হল— এ কেমন বিচার, প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম। কোন যুক্তিতে এবং কী সফ্টঅয়্যার কাজে লাগিয়ে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, জনসমক্ষে নির্বাচন কমিশনকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে দাবি করেছে তারা। সিপিএমের তরফে রাজ্য কমিটির তিন সদস্য শমীক লাহিড়ী, কল্লোল মজুমদার ও সুখেন্দু পানিগ্রাহি রাজ্যের সিইও-কে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, যাঁদের ভোটের ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধি ও দেশের সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তাঁদেরই একাংশ হঠাৎ না-ভোটার হয়ে গেলেন— এই ঘটনা কেবল ভোটার তালিকার সংশোধন নয়, গভীর সাংবিধানিক দ্বিচারিতা! ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া মানুষের জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করার প্রক্রিয়া জারি রেখে ভোট করাও বৈধ নয় বলে দাবি করেছে সিপিএম। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) অনিয়মের অভিযোগ তুলে দলের তরফে যত চিঠি দেওয়া হয়েছে, তার তালিকা দিয়ে কমিশনের কাছে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ও (এটিআর) দাবি করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)