E-Paper

‘গুজরাতে এমন সভা করতে পারতাম না’, ভিড়ে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

মোদী সকালে প্রথম পৌঁছোন কালনার সিমলনে। প্রসঙ্গত, ১৯৮২-তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরে ৪৪ বছরের ব্যবধানে ফের আরও এক প্রধানমন্ত্রীর কালনায় সভা করতে আসা নিয়ে উন্মাদনা দেখা গিয়েছে জনতার মধ্যে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:১৮
শিলিগুড়িতে রোড -শো'য় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শিলিগুড়িতে রোড -শো'য় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — নিজস্ব চিত্র।

ভোটের মুখে গত মাসে ব্রিগেড ময়দানের জনসমাবেশ দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বার পূর্ব বর্ধমানের কালনা, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডির সভার ভিড়ের বহর দেখে আরও উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী। গত ২০২১-এর নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এই তিন জেলায় বিজেপির প্রাপ্তি ছিল যথাক্রমে শূন্য, দুই ও তিনটি আসন। এমন প্রেক্ষাপটে মোদীর সভায় ভিড় জমতে দেখে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব আগামীর ভোটে ভাল ফল করার আশা করছেন।

তিন জেলায় শনিবার দিনভর সভা করার পরে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যার মুখে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে গিয়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘রোড-শো’ করেছেন। সেখানে জনতার সাড়া দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমেও এসেছিলেন। এই রোড-শোটিকে ‘স্মরণীয়’ বলার পাশাপাশি মোদীর বক্তব্য, ‘এটি প্রমাণ করে, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিজেপির উন্নয়মূলক কর্মসূচি কতটা সাড়া ফেলেছে।’ রাতে উত্তরবঙ্গেই রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে আজ, রবিবার তাঁর জনসভা করার কথা।

মোদী এ দিন সকালে প্রথম পৌঁছোন কালনার সিমলনে। প্রসঙ্গত, ১৯৮২-তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরে ৪৪ বছরের ব্যবধানে ফের আরও এক প্রধানমন্ত্রীর কালনায় সভা করতে আসা নিয়ে উন্মাদনা দেখা গিয়েছে জনতার মধ্যে। কালনার সভায় মোদী পৌঁছন সকাল সাড়ে ১১টায়। তার আগে সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয় জনসমাগম। হেলিপ্যাডের ধারেও ভিড় জমিয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। হেলিপ্যাডের বাঁশের ব্যারিকেডে এত মানুষকে ভিড় করে থাকতে দেখে মোদী ভিডিয়ো-বার্তায় বলেছেন, “বাংলার মেজাজ কী, তা এই দৃশ্যেই পরিষ্কার।” পরে সভামঞ্চেও তিনি জনতার উদ্দেশে বলেছেন, “আমার জীবন কেটেছে গুজরাতে। কিন্তু গুজরাতে সকাল ১১-১২টায় এমন সভা আমি করতে পারতাম না! সকাল সকাল এত মানুষ আশীর্বাদ দিতে এসেছেন। এই ভালবাসাই বলে দিচ্ছে, এ বার বাংলায় খেলা হতে চলেছে।” সভায় যুবক-যুবতীর ভিড় বড় সংখ্যায় দেখা গিয়েছে। সভা শেষে টোটো, ট্রাক্টর, বাসের জেরে যানজট তৈরি হয় বর্ধমান-কালনা রোডে। কালনার সুলতানপুরের যুবক দেবনাথ সরকার বলেছেন, “বহু দিন ধরে প্রধানমন্ত্রীকে দেখার ইচ্ছা ছিল। তাই সুযোগ হাতছাড়া করিনি।’’

জনবিন্যাসের হিসাবে ৫০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জঙ্গিপুরে মোদীর সভার ভিড় নিয়েও উচ্ছ্বসিত সেখানকার বিজেপি। সেখানকার বিজেপি প্রার্থী চিত্ত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, “পৌনে তিন লক্ষ মানুষ এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সভায়।” আর কুশমণ্ডির ভিড় দেখে মোদী নিজেই বলেছেন, “আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, আমাদের এই সভায় জায়গা কম পড়েছে। প্রচুর মানুষ রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। হেলিকপ্টার যেখানে নামল, সেখানে আরও বেশি লোক দেখলাম।’’

ভিড়ের সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে অবশ্য নানা মত শোনা গিয়েছে। বিজেপির নেতৃত্বের দাবি, কালনায় সভাস্থল ও হেলিপ্যাড মিলিয়ে লক্ষাধিক লোকের বেশি জমায়েত হয়েছিল। তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, কালনার জনসমাগমের সংখ্যাটা হাজার দশেক। কুশমণ্ডিতে সেই সংখ্যাটা এক লক্ষের মতো। পুলিশের অবশ্য দাবি, কুশমণ্ডির সভায় ভিড় হয়েছিল ৫০ হাজারের মতো। তবে জঙ্গিপুরের জনসমাগম নিয়ে সেখানকার তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘‘আমি বহরমপুরে ছিলাম। তিনটি ছাউনি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সভা। তাই দেড় দু’লক্ষ লোক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।’’ সভাস্থলের পাশেই বাড়ি তৃণমূলের রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লক সভাপতি গৌতম ঘোষের। তাঁর দাবি, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সভার তুলনায় আশানুরূপ লোক হয়নি। ঝাড়খণ্ড, মালদহ, নদিয়া থেকেও লোক এসেছে।” এই আবহে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “ভিড় দেখে প্রধানমন্ত্রী অভিভূত।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Narendra Modi

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy