উপহার হিসাবে নিকট আত্মীয়ের থেকে পেয়েছেন একগুচ্ছ শেয়ার। সেই স্টক কি আয়করের আওতাভুক্ত? শেয়ার প্রদানকারী এবং প্রাপককে কী হিসাবে দিতে হবে কর? বিষয়টি নিয়ে আমজনতার মনে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। তাঁদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর রইল আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে।
অতীতে ‘উপহার কর আইন’-এর আওতায় উপহার প্রদানকারী ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক ভাবে দিতে হত কর। কিন্তু, পরবর্তীকালে বিলুপ্ত হয় এই আইন। ফলে বর্তমানে উপহার প্রদানকারীকে উপহারের জন্য দিতে হয় না কোনও কর। যদিও প্রাপকের ক্ষেত্রে নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা।
আরও পড়ুন:
আইকর আইন অনুযায়ী, মূলধনী সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তার থেকে মূলধনী লাভ হয়ে থাকে। কিন্তু, তার পরেও এই আইনের ৪৭ নম্বর ধারায় ‘হস্তান্তর’-এর সংজ্ঞায় উপহারকে বিশেষ ভাবে বাদ রেখেছে কেন্দ্র। আর তাই কর দেওয়ার থেকে অব্যাহতি পেয়ে থাকেন উপহার প্রদানকারী ব্যক্তি।
শেয়ার, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), মিউচুয়াল ফান্ড, গয়না এবং এই ধরনের সম্পদকে অস্থাবর সম্পত্তির শ্রেণিভুক্ত করেছে আয়কর দফতর। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি এই ধরনের সম্পত্তি বিনামূল্যে উপহার হিসাবে পেয়ে থাকেন এবং প্রাপ্ত সম্পত্তির ন্যায্য বাজারমূল্য ৫০,০০০ টাকার বেশি হয়, তা হলে আয়কর আইনের ৫৬ (২) ধারা অনুযায়ী তাঁকে দিতে হবে কর।
শুধু তা-ই নয়, আয়কর রিটার্ন দাখিল করার সময় প্রাপ্ত উপহারের বিষয়টি উল্লেখ করাও বাধ্যতামূলক। একে ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’-এর অধীনে রাখতে হবে। তার পর আয়করের সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুযায়ী কর দেবেন তিনি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপহারের জন্য দিতে হয় না কোনও কর। যেমন, সংশ্লিষ্ট ‘উপহার’ যদি কোনও আত্মীয় অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রী, ভাই বা বোন বা অন্য কোনও বংশধরের থেকে পাওয়া যায়, তবে সেটি পুরোপুরি করমুক্ত।
এ ছাড়া বিয়ে বা উত্তরাধিকার সূত্রেও কেউ উপহার হিসাবে শেয়ার পেতে পারেন। সেই স্টকও আয়করের আওতাভুক্ত নয়। তবে উপহারে পাওয়া শেয়ার, ইটিএফ বা মিউচুয়াল ফান্ড বিক্রি করলে, সেখান থেকে প্রাপ্ত মুনাফার উপর মূলধনী খাতে তাঁকে দিতে হবে কর। আয়কর রিটার্ন-২ দাখিলের সময় প্রযোজ্য করের টাকা জমা করতে পারবেন তিনি।