পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মধ্যেই ওমানের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হল সোমবার থেকে। গত ডিসেম্বরে যা সই হয়েছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানান, এর হাত ধরে বস্ত্র, চামড়া, প্লাস্টিক, গাড়ি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রফতানি বাড়বে দেশের। প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। চুক্তির সূচনা হিসেবে এ দিন কলকাতা, মুম্বই এবং চেন্নাই থেকে কৃষি, গয়না ও দামি পাথরের মতো পণ্যের ১০টি বরাত পাঠানো হয়েছে ওমানে। এই চুক্তি পশ্চিমবঙ্গের রফতানি ক্ষেত্রকেও অনেকটা এগিয়ে দেবে বলে দাবি করেছেন গয়াল। একটি নিবন্ধে তাঁর বার্তা, এ রাজ্যের দার্জিলিং চা, চর্মপণ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, চট এবং তাঁতের জিনিস, আম, প্রক্রিয়াজাত সামুদ্রিক পণ্য পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে পারবে। এ রাজ্য-সহ যে সমস্ত অঞ্চলে অলঙ্কার শিল্পগুচ্ছ রয়েছে, সেগুলিতেও কাজ বৃদ্ধির আশা। বাণিজ্য উপদেষ্টা জিটিআরআই-এর মতে, এই চুক্তির কারণে হরমুজ় প্রণালী এড়িয়ে পশ্চিম এশিয়ায় আমদানি-রফতানি সহজ হবে।
জিটিআরআই-এর বক্তব্য, ওমান পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী। ফলে চুক্তি দেশীয় সংস্থাগুলির বাজার আরও খুলবে। তবে নয়াদিল্লির কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সে দেশের অবস্থান। কারণ, ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ় বন্ধ থাকায় সঙ্কটে ভারতের বাণিজ্য। ঘুরপথে পণ্য বহনে জাহাজ ভাড়া বেশি লাগছে, বেড়েছে বিমার খরচও। এ দিকে ওমানে মাস্কাটের সমুদ্রতীর হরমুজ়ের আওতায় নয়। বরং তার মুখ আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরের দিকে। ফলে যুদ্ধ এড়িয়ে পশ্চিম এশিয়া থেকে সালালাহ এবং দুকমবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিতে অনেকটাই সুবিধা হবে ভারতের।
এ দিকে, চলতি সপ্তাহে ব্রিটেনের সঙ্গেও অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে চলেছে মোদী সরকার। ইস্পাত, কার্বন নির্গমণের মতো কিছু বিষয় নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় এখনও তাদের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করতে পারেনি ভারত। গত বছর জুলাইয়ে তাতে সই-সাবুদ হয়েছিল। সূত্রের খবর, আজ থেকে ব্রিটেনের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ক্রিস ব্রিয়ান্টের ভারত সফরেই বিষয়গুলি নিয়ে কথা হতে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)