ঝুলবারান্দা থেকে সোজাসুজি তাকালেই চোখে পড়বে দিগন্তবিস্তৃত আরব সাগর। নীচের রাস্তায় কর্মব্যস্ত শহর। এ বার রেকর্ড মূল্যে ‘মায়ানগরী’ মুম্বইয়ে বিক্রি হল এ-হেন এক স্বপ্নের আবাসন, যার মালিকানা হাতে নিয়ে ফের এক বার খবরের শিরোনামে এসেছে গোদরেজ গ্রুপের এগ্জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর তথা চিফ ব্র্যান্ড অফিসার তানিয়া দুবাশ।
মুম্বইয়ে ওরলি সাগরমুখী ওই বিলাসবহুল আবাসনটি বিক্রি হয়েছে ৩০০ কোটি টাকায়। এর জন্য প্রতি বর্গ ফুটে ২.৫০ লক্ষ টাকার বেশি দিয়েছেন তানিয়া, চলতি বছরের নিরিখে এখনও পর্যন্ত যা রেকর্ড। এই ঘটনায় বাণিজ্যনগরীর বিলাসবহুল আবাসনের বাজার বেশ চাঙ্গা হচ্ছে বলেই জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ওরলি সাগরমুখী মুম্বইয়ের সমস্ত ফ্ল্যাটের দাম কিন্তু একরকম নয়। শুধু তা-ই নয়, ওই এলাকার আবাসনের দর কেমন হবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনও মানদণ্ডও নেই। রিয়্যাল এস্টেটের বাজার নজরদার সংস্থাগুলির দাবি, ফ্ল্যাটের আকার, সুযোগ-সুবিধা এবং বাসিন্দাদের আর্থিক ও সামাজিক পরিচয়ের উপর এর দর কম বা বেশি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের দাবি, তানিয়া দুবাশ ওরলি সাগরমুখী আবাসন কিনে ফেলায়, ওই এলাকায় ফ্ল্যাট পেতে ঝাঁপাতে পারেন এ দেশের শিল্পপতিদের একাংশ। সে ক্ষেত্রে মুম্বইয়ের বিলাসবহুল আবাসনের দর যে আকাশছোঁয়া হবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে বাণিজ্যনগরীতে পুরনো বাড়িরও বেশ চাহিদা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
রিয়্যাল এস্টেটের বাজার নজরদার সংস্থাগুলির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুম্বইয়ের সমুদ্রমুখী পুরনো বাড়ির দাম বর্তমানে কমবেশি ১০ কোটি টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অন্য দিকে গগনচুম্বী অট্টালিকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনতে হলে খরচ করতে হবে অন্তত ২০০ কোটি টাকা।
মুম্বইয়ের সাগরমুখী বাড়ি বা ফ্ল্যাটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এই তালিকায় ওরলি সমুদ্রের দিকের আবাসনগুলি সর্বাধিক বিলাসবহুল বললে অত্যুক্তি হবে না। সেখানকার ফ্ল্যাটের দাম সাধারণত প্রতি বর্গফুটে ৮০,০০০ থেকে এক লক্ষ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে থাকে। খুব দামি আবাসনের ক্ষেত্রে সেটা পৌঁছোয় ২.৮০ লক্ষ টাকা/বর্গফুটে।
বাজার নজরদার সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ওরলি সাগরের দিকের আবাসনগুলির কার্পেট এরিয়া সাধারণত ৩,৫০০ বর্গফুটের বেশি থাকে, যেটা চাহিদার একটা অন্যতম বড় কারণ। গত বছরের মে মাসে ওই এলাকায় ৬৩৯ কোটি টাকায় আবাসন কেনেন ইউএসভির চেয়ারপার্সন লীনা গান্ধী তিওয়ারি, যা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল বলে জানা গিয়েছে।