রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার শেয়ারে বাম্পার রিটার্ন। ‘লাইফ ইনসিয়োর্যান্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’ বা এলআইসির প্রতি স্টকে মিলবে ১০ টাকা লভ্যাংশ! পাশাপাশি, বোনাস শেয়ার বরাদ্দের তারিখও ঘোষণা করেছে তারা। এর জেরে দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্থাটির লগ্নিকারীদের মুখের হাসি যে চওড়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ) ফলাফল প্রকাশ করে এলআইসি। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থাটির সমন্বিত নিট মুনাফার (কনসলিডেটেড নিট প্রফিট) পরিমাণ বেড়েছে ২৩ শতাংশ। টাকার অঙ্কে তা ২৩,৪৬৭ কোটি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তাদের সমন্বিত নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৯,০৩৯ কোটি টাকা।
লাভের অঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করে এলআইসি। যে কোনও বিমা সংস্থার আর্থিক শক্তি পরিমাপের একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। তাকে বলা হয় তারল্য অনুপাত বা সলভেন্সি রেশিয়ো। এলআইসির ক্ষেত্রে এ বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সেই সূচক। ফলে ২.৩৫ শতাংশে পৌঁছে যায় সেটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের জন্য তাদের এই অনুপাত ছিল ২.১১ শতাংশ।
অন্য দিকে বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে ইতিমধ্যেই শেয়ারবাজারে নথি জমা করেছে সরকারি জীবন বিমা সংস্থা। সেখানে বলা হয়েছে ১:১ অনুপাতে অতিরিক্ত স্টক পাবেন লগ্নিকারীদের একাংশ। আগামী ২৯ মে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের নথিভুক্ত করবে এলআইসি। ১ জুন থেকে বরাদ্দ করা অতিরিক্ত শেয়ার হাতে পাবেন তাঁরা।
লক্ষ্মীবারে বাজার বন্ধ হওয়ার পর এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের ফলাফল ঘোষণা করে এলআইসি। ওই সময় ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) ৮০৪ টাকায় দাঁড়িয়ে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বিমা সংস্থাটির স্টক। এতে ৩.৪৫ টাকায় বৃদ্ধি দেখতে পাওয়া গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত ছ’মাসে শেয়ারটির দাম পড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।
এলআইসির চিফ এক্জ়িকিউটিভ অফিসার (সিইও) তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আর ডোরাইস্বামী অবশ্য তাতে খুব বেশি চিন্তিত নন। ফলঘোষণার পর তিনি বলেন, ‘‘গত অর্থবর্ষে (২০২৫-’২৬) আমরা ভাল ব্যবসা করেছি। আমাদের বৃদ্ধির হার ৪৫ শতাংশ বলে জানিয়েছে ‘ব্যাঙ্কা অ্যান্ড অলটারনেটিভ চ্যানেল্স’ বা বিএসি, যা এখনও পর্যন্ত রেকর্ড।’’
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)