টাকার দামকে তলানিতে নামিয়ে ডলার ৯৭ টাকায় পৌঁছেছিল বুধবার। তখনই প্রমাদ গোনে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক-সহ সংশ্লিষ্ট মহল। সূত্রের খবর, ভারতীয় মুদ্রাকে রক্ষা করতে এ বার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপানোর পরিকল্পনা করছে আরবিআই। যে কোনও মূল্যে তাকে আরও পড়ার হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে আরও ডলার কেনা, জমা প্রকল্পের মাধ্যমে বা ডলার বন্ড বিক্রি করে অনাবাসী ভারতীয়দের কাছ থেকে তা তোলার ব্যবস্থা ছাড়াও সম্ভাব্য পদক্ষেপের একটি হতে পারে সুদের হার বৃদ্ধি। পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করতে দফায়-দফায় বৈঠক করছেন আরবিআই গভর্নর-সহ শীর্ষকর্তারা। তবে এরই মধ্যে ষোড়শ অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগড়িয়ার মন্তব্য, ডলার ১০০ টাকায় পৌঁছলেও চিন্তার কিছু নেই। অশোধিত তেলের দাম কমলে এবং বিদেশি লগ্নি আসতে শুরু করলে তা মাথা নামাবে। জোর করে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের টাকার দামকে বেঁধে রাখার চেষ্টা করা উচিত নয়।
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অবশ্য ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, তিন বছরের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলার কিনবে তারা। এতে ব্যাঙ্কগুলিতেও নগদের জোগান বাড়বে, আবার আরবিআইয়ের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারও বাড়বে। যা টাকার পতন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাহায্য করতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের বার্তা, সরকার টাকার দামে নজর রাখছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। তবে আমদানিতে কঠিন বিধিনিষেধ বসানোর পরিকল্পনা নেই।
দেশে এর মধ্যেই তেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। বাড়ছে জিনিসপত্রের মূল্য। খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার বেশ খানিকটা চড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এপ্রিলে পাইকারি বাজারের মূল্যবৃদ্ধি ৮% পেরিয়ে যাওয়ার পরে খুচরো বাজারেও তা ওই গতিতে বাড়বে কি না, উঠেছে প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, আগামী ৫ জুনের ঋণনীতি পর্যালোচনায় মূল্যবৃদ্ধিকে আটকাতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়াতে পারে। জুন এবং অগস্টের ঋণনীতিতে ভাগাভাগি করে মোট ৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট (যে সুদে ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয় আরবিআই) বাড়ানো হতে পারে। তবে জুনে যদি একান্তই সুদ বৃদ্ধি না হয়, তা হলে একলপ্তে তা ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে শুধু অগস্টেই। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সত্যিই ফের সুদ বাড়তে শুরু করলে দুর্ভোগ বাড়বে ঋণগ্রহীতাদের। বাড়ি-গাড়ি সমেত বিভিন্ন ঋণ শোধের মাসিক কিস্তির খরচ আবার বাড়বে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)