E-Paper

তেল-আশ্বাস রুবিয়োর, নজরে বাণিজ্য চুক্তিও

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রুবিয়োর সফর শেষ হওয়ার পরই ভারতে আসবে আমেরিকার একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১০:১১
আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো।

আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। ছবি: রয়টার্স।

শুল্ক জট এবং তেল নিষেধাজ্ঞার টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার ভারত সফরে আসছেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। নয়াদিল্লির নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় অগ্রাধিকার পেতে চলেছে ভারত-আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বাণিজ্য-চুক্তি। সেই সঙ্গে রুবিয়ো আশ্বাস দিয়েছেন, ভারতের যত তেল প্রয়োজন, তা জোগাতে প্রস্তুত আছে আমেরিকা।

বৃহস্পতিবার রুবিয়ো বলেছেন, ‘‘ভারত যত তেল কিনতে চাইবে, আমরা ততটাই বিক্রি করব।’’ সেই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন, ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ় আগামী সপ্তাহে ভারতে যাবেন। ভেনেজ়ুয়েলার এই নতুন সরকারের থেকে অনেকটাই তেল পাচ্ছে আমেরিকা। ডেলসির ভারত সফরে ভেনেজ়ুয়েলার অশোধিত তেলের একাংশ আমেরিকার মাধ্যমে ভারতে আসবে কি না, সেটা নিয়ে কথা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সের্জিয়ো গোর উভয়েই আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রুবিয়োর সফর শেষ হওয়ার পরই ভারতে আসবে আমেরিকার একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। পীযূষের কথায়, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে ভারত যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে (বাণিজ্য-চুক্তির প্রশ্নে)।” রুবিয়োর সঙ্গেই আমেরিকার তরফে বাণিজ্য চুক্তির মুখ্য কর্তা আসছেন কি না, এই প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেছেন, “রুবিয়োর সঙ্গে নয়। তবে পরিকল্পনা রয়েছে আগামী মাসে তাঁদের আসার।” প্রসঙ্গত গত মাসে ভারতীয় প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটন সফর সেরে ফিরেছে। আমেরিকার কর্তদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে অন্তর্বর্তী চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া নির্দিষ্ট হয়েছে বলে খবর। এখন তাকে বৃহত্তর ও প্রসারিত করে বাণিজ্য-চুক্তি সই করার প্রক্রিয়া চলছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, বেশ কিছু আমেরিকার সংস্থা ভারতে বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। তাঁর কথায়, “গত ছ’মাসে আমেরিকার শিল্পক্ষেত্রে আমরা যে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছি, তার পরিমাণ সম্ভবত দাঁড়াচ্ছে ৬০ বিলিয়ন ডলারে। সব মিলিয়ে এটাই বিশ্বাস যে, ভারত এবং আমেরিকা এখন একে অন্যের সহজাত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। আমরা একে অন্যের পরিপূরক।”

অন্য দিকে আজ সের্জিয়ো গোরের বক্তব্য, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাতে আমেরিকায় কর্ম ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়। আমাদের বর্তমান অন্তর্বর্তিকালীন চুক্তি টেবিলে রয়েছে চূড়ান্তহওয়ার অপেক্ষায়। দু’টি দেশেরই সমৃদ্ধির চাবিকাঠি এই চুক্তি। আমরা মুখিয়ে রয়েছি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য। এর ফলে একে অন্যের দেশে ঢোকার সুযোগ প্রসারিত হবে, বাধা কমবে। উভয় তরফে আরও বাণিজ্যের নিশ্চয়তা বাড়বে। যদি এই চুক্তি ঠিক মতো করা যায়, তা হলে তা আন্তর্জাতিক বণ্টন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে, নতুন বিনিয়োগের পথ মসৃণ করবে।”তাঁর কথায়, “আগামী মাসে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধিদল চুক্তির লক্ষ্য স্থির করবে। এটা ঠিকই যে, গত দেড় বছর ধরে দর কষাকষি চলছে। কিন্তু এটাও ভাবতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের লেগেছিল ১৯ বছর। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী কিছু সপ্তাহ বা মাসের পরই বাণিজ্য-চুক্তি চূড়ান্ত হবে।”

মুক্ত বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে গত এক বছর ধরে আলোচনা চলছে ভারত এবং আমেরিকার। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদীর ওয়াশিংটন সফরের পর থেকে দু’দেশেরবাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। শুল্ক ঘিরে জটিলতার মাঝে তা থমকেও ছিল। পরে আবার তা শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় দু’দেশের মধ্যে এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Marco Rubio america

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy