পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানির সমস্যা এবং দেশের বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধি, খরচে রাশ এবং বৃষ্টি কম হওয়ার মতো ঘটনা চলতি অর্থবর্ষে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্যগুলির বিক্রি শ্লথ করতে পারে বলে জানাল সমীক্ষা। রিপোর্টে দাবি, এগুলির বিক্রি বৃদ্ধির হার থমকে যেতে পারে ৫ শতাংশের আশপাশে। গত অর্থবর্ষেও তা আটকেছিল ৪.৫ শতাংশে।
উপদেষ্টা সংস্থা ওয়ার্ল্ডপ্যানেল বাই নিউমেরেটর (পূর্বতন কান্টার)-এর সমীক্ষায় দাবি, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার পরে গত প্রায় দু’মাস ধরে গোটা বিশ্ব জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে। যার ধাক্কা লেগেছে ভারতের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে। যে কারণে অনেকে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় জোর দিচ্ছেন। পাল্টাছেন খাওয়ারধরন-ধারণ, রান্না করা এবং কেনাকাটার অভ্যাস।
সংস্থাটির দাবি, সাবান, শ্যাম্পু, চা, বিস্কুটের মতো সমস্ত স্বল্পমেয়াদি ভোগ্যপণ্যের দাম ইতিমধ্যেই বাড়াতে শুরু করেছে বহু সংস্থা। আগামী দিনে তা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা। এর ফলে সেগুলির বিক্রি বৃদ্ধির হার চোট খেতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি আরও কয়েক মাস ধরে চললে এবং তেল-গ্যাসের সমস্যা না কাটলে তা ৪-৪.৫ শতাংশের মধ্যে আটকে যেতে পারে। আর যদি অনাবৃষ্টি হয়, সংস্থাগুলি লোকসান কমাতে দাম আরও বাড়ায় এবং জ্বালানির দাম মাথা তোলার কারণে বাজারে সার্বিক খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার চড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে ওই বিক্রি বৃদ্ধির হার আরও কমে ৩-৪ শতাংশে নামার আশঙ্কা থাকছে।
এর মধ্যেও শহরাঞ্চলে চাহিদা বেশি থাকবে বলে মনে করে উপদেষ্টাটি। রিপোর্ট জানাচ্ছে, জানুয়ারি-মার্চে শহরে ভোগ্যপণ্য বিক্রি বেড়েছে ৬.৪%, গ্রামে প্রায় ৪%। পাশাপাশি, পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের খরচও বেড়েছে। এই সময়ে একটি পরিবার গড়ে ১৪৫ টাকার পণ্য কিনেছেন। যা এক বছর আগে ছিল ১৩০ টাকা।
সমীক্ষা এটাও দেখিয়েছে, আমজনতা দোকানে যাচ্ছেন কম। অর্থাৎ কম কেনাকাটা করেও খরচ হচ্ছে বেশি। তাই তাঁরা রোজকারের অভ্যাস, খাবারের ধরন বদলাচ্ছেন। খরচ কমাতে এবং কম কেনাকাটা করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রবণতাগুলি ধরা পড়েছে সমীক্ষায় সেগুলি হল— একসঙ্গে বেশি করে রান্না করে রাখা, কিছু ক্ষেত্রে রান্না না করা, চটজলদি খাবার ও বিশেষ পদগুলি তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা, কেনাকাটার ক্ষেত্রে একবারে বেশি পণ্য কিনে রাখা, বড় প্যাকেট কিনে খরচ কমানো, সব সময়ের জন্য হাতের কাছে বাড়তি পণ্য মজুত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা ইত্যাদি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)