দেশের প্রথম সারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস’ বা টিসিএসে ফের ডামাডোল। কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন আর্থিক বছরে (পড়ুন ২০২৬-’২৭) বাড়ানো হয়েছে বেতন। যদিও তা মানতে নারাজ সেখানকার কর্মীদের একাংশ। উল্টে আগের চেয়ে কম মাসমাইনে পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। এর জেরে সংশ্লিষ্ট সংস্থায় কর্মীবিক্ষোভের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই।
চলতি বছরের ১৮ মে কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করে টিসিএস। কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে মাসমাইনে ন্যূনতম বৃদ্ধি পায় গড়ে প্রায় পাঁচ শতাংশ। কর্মদক্ষতার মূল্যায়নে এ বার কর্মীদের মোট চারটি শ্রেণি বা ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে দেশের প্রথম সারির এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। সেগুলি হল, এ প্লাস, এ, বি এবং সি।
আরও পড়ুন:
টিসিএসের কর্মীদের একাংশের দাবি, নতুন অর্থবর্ষে (২০২৬-’২৭) এ প্লাস শ্রেণিভুক্তদের ৯ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বেতন। এ ছাড়া ৫ থেকে ৯ শতাংশ বেশি মাসমাইনে পাচ্ছেন এ শ্রেণির কর্মীরা। বি শ্রেণিভুক্তদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ১ থেকে ৩.৫ শতাংশ। কিন্তু অভিযোগ, সি ক্যাটেগরিতে থাকা কর্মীদের বেতনবৃদ্ধি হয়নি। উল্টে মাসমাইনে কমেছে তাঁদের।
সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন টিসিএস কর্মীদের একাংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁদের একজন ‘মানি কন্ট্রোল’কে বলেন, ‘‘আমার বার্ষিক বেতন (পোশাকি নাম সিটিসি বা কস্ট টু কোম্পানি) ১,০০০ টাকার বেশি কম গিয়েছে। অথচ কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন রিপোর্টে রেটিং ছিল বেশ ভাল। এখন মাসে আগের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছি।’’
টিসিএস কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, নতুন কেন্দ্রীয় শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতনকাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে কর্মীদের মোট (গ্রস) বেতন এবং হাতে পাওয়া টাকা সুরক্ষিত করা গিয়েছে। পাশাপাশি, সিটিসিতেও তেমন কোনও বদল হয়নি। সংস্থার তরফে কর্মীদের কৃতজ্ঞতা-ভাতা বা গ্র্যাচুইটি দেওয়া হচ্ছে। তবে সচেতন ভাবে সেটি সিটিসির অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সেই কারণেই অনেকে মনে করছেন কম গিয়েছে তাঁদের মাসমাইনে।
তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ২,১২৮ কোটি টাকা সরিয়ে রাখেন তাঁরা। গত বছরের (২০২৫ সাল) অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে যা এককালীন ব্যয় হিসাবে দেখানো হয়। বর্তমানে মোট কর্মীসংখ্যা ৫ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১৯ বলে জানিয়েছে টিসিএস।