শিল্প বা বাণিজ্যিক সংস্থার মতো দেশে একলপ্তে যারা বেশি পরিমাণ ডিজ়েল কেনেন (বাল্ক), তাদের ক্ষেত্রে তেলের দাম খুচরো গ্রাহকদের তুলনায় বেশ খানিকটা চড়া। তাই ওই বাল্ক ডিজ়েলের ক্রেতারা তুলনায় কম দামে সাধারণ পাম্প থেকে বেশি করে তেল কিনছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বুধবার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। তথ্য বলছে, বেসরকারি তেল সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই বাল্ক ক্রেতাদের চাহিদা মে মাসে কমেছে ৩৮%। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিতে তা ২৯%। কিন্তু এই চাহিদা হ্রাসের পুরোটাই গিয়ে পড়েছে সাধারণ পেট্রল পাম্পে। যেখান থেকে এই শ্রেণির ক্রেতাদের বেশি তেল কেনা নিয়ম বহির্ভূত। তাই এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে প্রতিটি রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট মহলকে বিশেষ দল গঠন করে নজরদারির পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রক।
এ দিকে, বুধবার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রেক্ষিতে দেশে অত্যাবশ্যক পণ্যের জোগান এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিগোষ্ঠী। তাদের বৈঠকে ফের জানানো হয়েছে, ভারতে পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন আতঙ্কিত হয়ে সেগুলি বেশি না কেনেন।
সরকারি মহলের দাবি, পেট্রল পাম্পের ডিজ়েল শুধুমাত্র খুচরো ক্রেতাদের কাছেই বিক্রি হওয়ার কথা। সেখানে জোগান নিয়ে কোথাও কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বাল্ক গ্রাহকেরা সেই জ্বালানি কিনলে গোটা ব্যবস্থার ভারসাম্য ভেঙে পড়বে। বেআইনি ভাবে এটা ঘটছে বলেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যে কারণে বিষয়টিতে কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র।
এ দিন মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের পাম্পে পেট্রল-ডিজ়েলের চাহিদা নিয়ে সমস্যা নেই। গ্রাহকেরা তা সব সময়ে পাবেন। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সেখান থেকে শিল্পের জন্য বাণিজ্যিক গ্রাহকেরা বেশি করে ডিজ়েল কিনছেন। তারা আরও জানিয়েছে, পেট্রপণ্যের দাম বৃদ্ধির পরে এখন তেল সংস্থাগুলির দৈনিক ক্ষতির অঙ্ক ৫৫০ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। বাল্ক গ্রাহকেরা সাধারণ পাম্প থেকে জ্বালানি কিনলে লোকসানের অঙ্ক আরও বাড়বে। যা মোটেই অভিপ্রেত নয়। সেই কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)