Advertisement
WBState_Assembly_Elections_Lead0_03-05-26

‘ছিঃ, রাজনীতিকে এত নীচে নামাচ্ছেন’

তৃণমূল প্রার্থী রেজ্জাক মোল্লার মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ছে। বুদ্ধিজীবী থেকে রাজনীতিক, প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সবাই।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৬ ১৮:১০

কুত্‌সিত মন্তব্যের দৌড়ে সম্ভবত নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন প্রাক্তন সিপিএম নেতা, বর্তমান তৃণমূল প্রার্থী রেজ্জাক মোল্লা। দেব, মুনমুন সেনের পর তাঁর কুরুচির নিশানায় এ বার বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। উত্তর হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী রূপা কতটা লম্বা সিগারেট খান, কার সঙ্গে থাকেন, তা তিনি জানেন বলে মন্তব্য করেছেন রেজ্জাক। রূপাকে ‘দ্রৌপদী’ বলেও সম্বোধন করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘‘এরা ফট্‌কে সব লিডার, মানে সিনেমা আর্টিস্ট। এই রূপা গাঙ্গুলি, ও কত লম্বা সিগারেট খান আর কার সঙ্গে থাকে এ সব তো আমি জানি। কিন্তু যদি এখন বলেন যে রূপা গাঙ্গুলি দ্রৌপদী, আমার তো কিছু বলার নেই। সত্যি সত্যিই দ্রৌপদী।’’ তৃণমূল প্রার্থীর মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ছে। বুদ্ধিজীবী থেকে রাজনীতিক, প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সবাই।


‘‘এটা রেজ্জাক সাহেবের
ব্যক্তিগত মতামত।
আমার কিছু বলার নেই।’’

ব্রাত্য বসু


‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে এর
থেকে বেশি শালীনতা আশা করি না। এই কথাটা
বলার জন্যও আমার ৩০টা সেকেন্ড নষ্ট হল।’’

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়


‘‘এত নিম্ন রুচির মন্তব্য, এ নিয়ে কথা বলতে
ভাল লাগে না। আমার জীবদ্দশায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে
এত কুরুচিকর মন্তব্য আগে শুনিনি। নিন্দার ভাষা নেই।’’

বাদশা মৈত্র (অভিনেতা)

‘‘পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অদ্ভুত একটা অপসংস্কৃতির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। যে কেউ যাকে, যা খুশি বলে যাচ্ছেন। নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই। বামজমানাতেও কেউ কেউ এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। কিন্তু দল সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। তৃণমূলের জমানায় সে সবের কোনও বালাই নেই। মুনমুন সেন, দেব সাংসদ হিসেবে কতটা সফল না ব্যর্থ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ভাল রাজনীতিবিদ না খারাপ, তার সঙ্গে এই ধরনের মন্তব্যের কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে না। এই ধরনের মন্তব্য মনের মধ্যে জমে থাকা নারী বিদ্বেষের প্রমাণ দেয়। দল-মত নির্বিশেষে এই ধরনের মন্তব্যের বিরোধিতা প্রয়োজন।’’

কৌশিক সেন (নাট্য ব্যক্তিত্ব)

‘‘অত্যন্ত বিরক্তিকর মন্তব্য। কে মদ খান, কে সিগারেট খান, কে কার সঙ্গে থাকেন সেই নিয়ে মন্তব্য করা অত্যন্ত কুরুচির পরিচয়। রাজনীতির মোকাবিলা রাজনৈতিক ভাবেই হওয়া বাঞ্ছনীয়। এই ধরনের অপরিপক্ক মন্তব্য উনি আগেও করেছেন, ব্যক্তিগত কুত্সা কখনই সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না।’’

সুনন্দা মুখোপাধ্যায় (রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন)

‘‘ছিঃ ছিঃ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিটাকে গুটি কতক মানুষ কত নীচে নামাচ্ছেন, সেটা ভাবতেও এখন লজ্জা হয়। এতটা নিম্ন রুচির মন্তব্য কেউ করেন কী ভাবে? এক সময় যিনি সমাজতন্ত্রের বুলি আওড়াতেন। তিনি যখন এই ধরনের মন্তব্য করেন তখন বোঝা যায়, আসলে তাঁর সেই বুলি কতটা মিথ্যাচার ছিল। মিসোজিনি যে এঁদের মধ্যে কতটা ডিপরুটেড এই মন্তব্যেই তার প্রমাণ মেলে। ন্যূনতম মূল্যবোধটুকু ওঁর নেই। যিনি এক জন মানুষকে বিন্দুমাত্র সম্মান দিতে পারেন না, তিনি কী ভাবে ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসার কথা ভাবছেন, জানি না। নিজের চরিত্রের ঘৃণ্য দিকটাই তুলে ধরলেন উনি।’’

অনিন্দিতা সর্বাধিকারী (পরিচালক)

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy