মীরের আগাম মন্তব্যে ক্ষোভ বঙ্গের কংগ্রেসে

ভোটের পরে বেশ কিছু বুথ - ফেরত সমীক্ষা রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই ধরনের সমীক্ষা অনেক সময়েই প্রকৃত ফলের সঙ্গে মেলে না। কিন্তু এআইসিসি - র পর্যবেক্ষক মীর দাবি করেছেন, রাজ্যে তাঁরা এই রকম পরিস্থিতি দেখেননি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ০৪:৩৭

— প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসি -র সাধারণ সম্পাদক গুলাম আহমেদ মীরের মন্তব্য ঘিরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিল কংগ্রেসের অন্দরে। রাজ্যে দু'দফায় প্রচারে এসে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিজেপির পাশাপশি ধারালো আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসকেও। তাঁর পরিষ্কার বক্তব্য ছিল, তৃণমূলের দুর্নীতি, অপশাসন এবং হিংসার রাজনীতি বাংলায় বিজেপির রাস্তা তৈরি করছে। তার পরেও পর্যবেক্ষক মীর কেন প্রকৃত ফল ঘোষণার আগেই তৃণমূল জিতবে বলে ঘোষণা করতে গেলেন, সেই প্রশ্ন তুলছেন রাজ্যে শাসক দলের হাতে জর্জরিত কংগ্রেসের একাধিক প্রার্থী ও নেতা।

ভোটের পরে বেশ কিছু বুথ - ফেরত সমীক্ষা রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই ধরনের সমীক্ষা অনেক সময়েই প্রকৃত ফলের সঙ্গে মেলে না। কিন্তু এআইসিসি - র পর্যবেক্ষক মীর দাবি করেছেন, রাজ্যে তাঁরা এই রকম পরিস্থিতি দেখেননি। মানুষ বিজেপির উপরেই ক্ষুব্ধ। ক্ষমতায় আসবে তৃণমূলই। এমনকি, ভোট- বাক্স খোলার আগেই তিনি বলে দিয়েছেন, বিজেপি নেতা - কর্মীদের বাড়ির মহিলারাও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। প্রচারে এসে রাহুলের বক্তব্যকে বিশেষ আমল দিতে চাননি মীর। বরং, প্রয়োজনে কংগ্রেস তৃণমূলকে সমর্থন করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। রাজ্যে দুই প্রবল শক্তিধর তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে থাকা কংগ্রেস প্রার্থীরা পর্যবেক্ষকের আগাম ঘোষণায় বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাঁদের প্রশ্ন, রাজ্যে প্রচারে থেকেও পর্যবেক্ষক শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখতে পেলেন না, এ কেমন কথা? তৃতীয় বিকল্প না দিতে চাইলে কংগ্রেস আর আলাদা লড়ছেই বা কেন?

একই প্রশ্ন তুলছেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ও বহরমপুরের প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, "কিছু নেতার হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, তৃণমূলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে লড়লেই ভাল হত! কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন, এই সন্দেহে মানুষের উপরে শাসক দলের হামলা হচ্ছে। আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা আক্রান্ত।সে দিকে এঁদের নজর নেই। কাশ্মীরের নেতা, এ রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতি না জেনেই যা খুশি বলে দিচ্ছেন। ক্ষতি হচ্ছে কংগ্রেসের।" এই রাজ্যে ভোটের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে অধীরের সংযোজন, "পঞ্চায়েত, পুরভোটে সরকারি আধিকারিকদের কাজে লাগিয়ে কী ভাবে ভোট লুট করা হয়েছে, ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে, মানুষ দেখেছেন। সেই তৃণমূলের হয়ে আনন্দ করতে বাংলার কংগ্রেস কর্মী - সমর্থকেরা পারবেন না!" প্রসঙ্গত, ভোটের পরে বহরমপুরে আক্রান্ত মানুষের কাছে গিয়েছেন অধীর, ঘুরে এসেছেন আসানসোলে মৃত কংগ্রেস সমর্থকের বাড়িতেও।

এই প্রশ্নে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, "মীর সাহেব কী বলেছেন, দেখিনি। তবে তৃণমূলকে সরাও, বিজেপিকে আটকাও - এই ডাক দিয়ে কংগ্রেস ভোটে লড়েছে। এই অবস্থান থেকেই লড়াই চলবে। আর ভোটের পরে কী হবে, ফল প্রকাশের পরে দেখা যাবে। তবে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা ফল ঘোষণার পরে আবার বোঝা যাবে।" একই সঙ্গে প্রদেশ সভাপতি বলেছেন, "নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আমাদের নানা প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। বিজেপি এবং তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় নিজদের মতো করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পরে মানুষ নিজের তাগিদ থেকে ভোট দিয়েছেন। এই কৃতিত্ব মানুষের।"

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Congress AICC AICC General Secretary West Bengal Congress

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy