ভোটের মুখে আবার একদফা আমলা বদল রাজ্যে। বেআইনি কাজের অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় নতুন জেলাশাসককেও নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বুধবারই আরও পাঁচ জেলায় পাঁচ অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম)-এর রদবদল করেছে কমিশন।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ছিলেন উনিশ রিশিন ইসমাইল। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটের আগে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের অভিযোগ ওঠে। এমন গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই আইএএস অফিসারকে বদলি করে দেওয়া হল। পূর্ব মেদিনীপুরের নতুন জেলাশাসক করা হল নিরঞ্জন কুমারকে।
এ ছাড়়া আরও পাঁচ আইএএস অফিসারকে বদলি করেছে কমিশন। উত্তর ২৪ পরগনায় কর্মরত রাজ্য সরকারের বিশেষ সচিব তেজস্বী রানাকে ওই জেলার ভাটপাড়া বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার করা হল। আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত জেলাশাসক আদিত্যবিক্রম মোহনকে মুর্শিদাবাদের রানিনগরের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হল। পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক ছিলেন রোহন লক্ষ্মীকান্ত। তাঁকে বাঁকুড়ার রানিনগরে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক লক্ষ্মণ পেরুমাল বাঁকুড়ার তালড্যাংরায় রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পেলেন। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাও পাতিল মালদহের বৈষ্ণবনগরে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পেলেন।
গত ১৫ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়। সেই রাত থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল শুরু করে কমিশন। নজরবিহীন ভাবে সেই মধ্যরাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে পরিবর্তন করা হয়। পরের দিন, ১৬ মার্চ রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকেও সরিয়ে দেয় কমিশন। তার পর একে একে আমলা, পুলিশ স্তরে ঢালাও রদবদল করে চলেছে কমিশন। একসঙ্গে রাজ্যের ১২টি জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়। বারাসত পুলিশ জেলা থেকে কোচবিহার, বীরভূম, ইসলামপুর পুলিশ জেলা, হুগলি গ্রামীণ, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা, মুর্শিদাবাদ, বসিরহাট পুলিশ জেলা, মালদহ, পূর্ব মেদিনীপুর, জঙ্গিপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের সুপার বদলে যায়।
আরও পড়ুন:
নবান্ন প্রতি ক্ষেত্রেই অপসারিত আধিকারিকদের নতুন পদে বহাল করেছে। সেই সঙ্গে কমিশনের এই ধরনের আচরণের নিন্দা করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। তবে নবান্নের পুনর্বহালের পরেও বুধবার কয়েক জন অপসারিত আধিকারিককে ভিন্রাজ্যে বদলির কথা জানায় কমিশন।